Image description

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের কাগদী বাজার সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ৩৬ বছর আগে নির্মিত একটি সেতু এখন এলাকাবাসীর জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় থাকা এই সেতুটি দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ ও বিভিন্ন যানবাহন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যার পর সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল। তবে গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে এটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সেতুর পলেস্তারা খসে পড়ে মরিচা ধরা রড বেরিয়ে গেছে। রেলিং ভেঙে যাওয়ায় কোথাও কোথাও বাঁশের কঞ্চি ও ডালপালা দিয়ে অস্থায়ী বেড়া দেওয়া হয়েছে। এমনকি সেতুর মাঝখানের পাটাতন ভেঙে যাওয়ায় সেখানে কাঠ বিছিয়ে কোনোমতে চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মাঝের পিলার দেবে গিয়ে সেতুতে বড় বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হওয়ায় ছোটখাটো দুর্ঘটনা এখন নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কাগদী গ্রামের বাসিন্দা ও স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, "সেতুটি এতটাই সরু যে একটি ভ্যান পার হওয়ার সময় অন্য পাশ থেকে আরেকটি ভ্যান আসার সুযোগ থাকে না। পার হওয়ার সময় পুরো সেতুটি কাঁপতে থাকে। আমরা সব সময় বড় কোনো দুর্ঘটনার আতঙ্কে থাকি।"

স্থানীয়রা জানান, কাগদী বাজার সংলগ্ন এই সেতুটি ব্যবহার করে প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী স্কুল, মাদ্রাসা ও কিন্ডারগার্টেনে যাতায়াত করে। এছাড়া বাজার, ভূমি অফিস ও ইউনিয়ন পরিষদে যাওয়ার এটিই একমাত্র ভরসা। বিশেষ করে হাটের দিন কৃষিপণ্য নিয়ে যাতায়াতের সময় বিপাকে পড়েন চাষিরা। মাঝেমধ্যে কর্মকর্তারা এসে মাটি পরীক্ষা করে গেলেও নতুন সেতু নির্মাণের দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই।

এ বিষয়ে সালথা উপজেলা প্রকৌশলী মো. আবু জাফর মিয়া বলেন, "কাগদী বাজার সংলগ্ন সেতুটি বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। আমরা ইতিমধ্যে সেখানে নতুন একটি সেতু নির্মাণের জন্য প্রস্তাবনা পাঠিয়েছি। প্রকল্প অনুমোদন পেলেই দ্রুত নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে।"

দ্রুততম সময়ের মধ্যে পুরোনো এই সেতুটি অপসারণ করে নতুন সেতু নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

মানবকণ্ঠ/ডিআর