জীবিকার পথে বের হয়ে আর ফেরা হলো না ভ্যান চালক আবুল হোসেনের
সকালের আলো তখন পুরোপুরি ছড়িয়ে পড়েনি। প্রতিদিনের মতোই জীবিকার সন্ধানে ভ্যান নিয়ে বেরিয়েছিলেন আবুল হোসেন (৬১)। পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে যে মানুষটি প্রতিদিন রাস্তায় নামতেন, শুক্রবার সকালে সেই পথেই থেমে গেল তাঁর জীবনের চাকা। ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে মোটরসাইকেল ও ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন এই ভ্যানচালক। আহত হয়েছেন আরও তিনজন।
শুক্রবার (২২ মে) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে পৌর শহরের মুক্তা সিনেমা হলসংলগ্ন প্রধান সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আবুল হোসেন পৌর শহরের মহলবাড়ি মহল্লার মৃত নয়ন শেখের ছেলে।
আহতরা হলেন; নেকমরদ এলাকার আব্দুর রউফের ছেলে তুহিন (১৭), পৌর শহরের ভান্ডারা গ্রামের ইউনুস আলীর ছেলে সফিকুল ইসলাম (৪৫) এবং পীরগঞ্জ উপজেলার পোয়েন্দা গ্রামের রকেটের ছেলে আতিক (১৬)। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, আবুল হোসেন ভ্যান নিয়ে শিবদিঘির দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় মুক্তা সিনেমা হলের সামনে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির মোটরসাইকেলের সঙ্গে ভ্যানটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ভ্যানটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং গুরুতর আহত হন আবুল হোসেনসহ কয়েকজন।
দুর্ঘটনার শব্দে আশপাশের মানুষ ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করে রাণীশংকৈল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আবুল হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালে স্বজনদের কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তাঁর স্বজনেরা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, আবুল হোসেন ছিলেন পরিশ্রমী ও শান্ত স্বভাবের মানুষ। রাণীশংকৈল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমানুল্লাহ আল আমান বারী বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ। নিহতের পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ তাঁদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
একটি দুর্ঘটনা কখনো শুধু একজন মানুষের মৃত্যু নয়, এর সঙ্গে থেমে যায় একটি পরিবারের স্বপ্ন, সংগ্রাম ও বেঁচে থাকার ভরসাও। আবুল হোসেনের মৃত্যুতে সেই শোকই এখন ছড়িয়ে পড়েছে পুরো এলাকায়।




Comments