রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বানেশ্বর আম বাজারে মৌসুমের শুরুতেই বিভিন্ন জাতের আম সরবরাহ শুরু হয়েছে। তবে বাজারে প্রত্যাশিত পাইকার ও ক্রেতার উপস্থিতি না থাকায় আমের দাম গত বছরের তুলনায় অনেক কম। এতে চরম হতাশায় পড়েছেন স্থানীয় আম চাষী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।
সরেজমিনে বানেশ্বর আম বাজার ঘুরে দেখা যায়, ভোর থেকেই কৃষকরা ভ্যান ও করিমন ভর্তি করে গোপালভোগ, গুঠি এবং অল্প পরিসরে লক্ষণভোগ জাতের আম নিয়ে বাজারে আসছেন। তবে আমদানির তুলনায় বাজারে বাইরের বড় পাইকারদের সংখ্যা অত্যন্ত কম। ফলে অনেক চাষীকে কাঙ্ক্ষিত দাম না পেয়েই কম মূল্যে আম বিক্রি করে ফিরে যেতে হচ্ছে। চাষীদের আশঙ্কা, এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে আম উৎপাদনের খরচ তোলাই অসম্ভব হয়ে পড়বে।
স্থানীয় আম চাষী আল মামুন বলেন, “এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আমের ফলন ভালো হয়েছে। কিন্তু বাজারে বাইরের ক্রেতা কম থাকায় আমের কদর নেই, দামও অনেক কম। বর্তমানে যে দামে আম বিক্রি হচ্ছে, তাতে বাগান পরিচর্যার খরচ তোলাও কঠিন হয়ে পড়বে।”
দুর্গাপুর আমগ্রামের চাষী নাসিম এবং ঝালুকার বাবর আলী জানান, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ায় আম উৎপাদনে এবার বড় অংকের বিনিয়োগ করতে হয়েছে। অথচ বাজারে আমের দাম ১০ বছর আগের মতোই রয়ে গেছে। ফলে তারা বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন।
বানেশ্বর বাজারের আড়তদার শামিম জানান, অন্যান্য বছর মৌসুমের শুরুতে বাজারে যে পরিমাণ পাইকার থাকে, এবার তার অর্ধেকও নেই। তিনি মনে করেন, সামনে কোরবানির ঈদ থাকায় বাইরের মোকামগুলো থেকে পাইকাররা এখনো সেভাবে আসছে না। ঈদের পরে হয়তো আমের বাজার চাঙ্গা হতে পারে।
বানেশ্বর বাজার হাটের ইজারাদার রাসেল সরকার বলেন, “ঈদের পরে সব ধরনের আম পুরোদমে বাজারে নামবে এবং বাইরের পাইকারদের আনাগোনা বাড়বে। আশা করা যায় তখন বর্তমান মন্দাভাব কেটে যাবে এবং চাষীরা ন্যায্য মূল্য পাবেন।”
কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মৌসুম সবে শুরু হয়েছে। ঈদ পরবর্তী সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আমের চাহিদা বাড়লে বাজার পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হবে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments