ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে হামের উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪ বছর বয়সী আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে হাসপাতালটিতে হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬ জনে।
রোববার (২৪ মে) সকালে হাসপাতালের সিনিয়র স্টোর অফিসার ডা. ঝন্টু সরকারের সই করা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
মৃত শিশুটি ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার রাঙামাটিয়া গ্রামের বাসিন্দা। গত ২০ মে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল এবং শনিবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১৯ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। একই সময়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৪৬ জন। বর্তমানে হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ৭২ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। এছাড়া পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় এক শিশুকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১৭ মার্চ থেকে আজ রোববার সকাল পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ হাজার ৫৭৯ জন শিশু মমেক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১ হাজার ৪৭১ জন।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে ময়মনসিংহ মেডিকেলের শিশু বিভাগে হামের লক্ষণ নিয়ে রোগী ভর্তি শুরু হয়। মার্চের মাঝামাঝি থেকে সংক্রমণের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় কর্তৃপক্ষ ৬৪ শয্যার একটি পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করে। সেখানে বর্তমানে তিনটি মেডিকেল টিম সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে।
হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডের ফোকাল পারসন ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহা. গোলাম মাওলা জানান, অনেক শিশু আগে থেকেই অপুষ্টিতে ভোগায় তাদের সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি থাকে। হাম হলে এই জটিলতা আরও তীব্র হয়। তিনি আরও বলেন, “শিশুদের জন্য হাসপাতালে আলাদা আইসিইউ না থাকায় গুরুতর রোগীদের ‘বাবল সিপ্যাপ’ পদ্ধতিতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে অবস্থার বেশি অবনতি হলে তাদের ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে।”
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments