গাইবান্ধায় বাস খাদে পড়ে গৃহবধূর মৃত্যু, অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন ১৫ যাত্রী
সকালের আলো ফুটতে না ফুটতেই চিরচেনা ব্যস্ততার মুখর হতে শুরু করেছে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী সড়ক। ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা নিউ সাফা পরিবহন বাসটি ঘরে ফেরার যাত্রী নিয়ে গাইবান্ধায় আসছিল। বাসের ভিতরে কেউ ঘুমে আচ্ছন্ন কেউ বা ঘরে ফেরার আনন্দের বিভোর।
কিন্তু রোববার (৩১ মে) সকাল ৭ টার দিকে পলাশবাড়ী ঠুটিয়াপুকুর নামক এলাকায় পৌঁছাতেই বদলে গেলো সড়কের দৃশ্যপট। চালক নিয়ন্ত্রয়ন হারালেই বিকট শব্দেই ছিটকে পরে সড়কের পাশ্বেই একটি খাদে। মুহূর্তের মধ্যে বাসের ভিতরের আনন্দ রুপ নেয় আর্তনাদ ও চিৎকারে। এই ভয়াবহ দূর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন রিক্তা বেগম (২৮) নামের এক গৃহবধূ। তিনি গাইবান্ধা সদর উপজেলার সাহার বাজার এলাকার আইজল হকের স্ত্রী। তবে ভাগ্যক্রমে প্রাণে বাঁচলো শিশুসহ বাসের ভিতরে থাকা আরো পনের যাত্রী। খাদে পানি কম ছিল নয়তো লাশ গুনতে হতো আরো।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আতস্কিত এক যাত্রী বলেন,বাসটি যখন নিয়ন্ত্রয়ন হারিয়ে খাদে পড়ে যায় আমরা ভেবেছিলাম আর বাঁচবোনা।ভাগ্য ভালো খাদটিতে পানি কম ছিলো। যার কারণে নিজে বাঁচতে পেরেছি এবং শিশুদেরও দ্রুত টেনে ওপরে আনতে পেরেছি। পানি বেশি থাকলে আজও অনেক বেশি লাশ বাড়তে। দূর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘর্টনাস্থলে ছুটে আসেন পলাশবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের কর্মিরা।
সাব-স্টেশন অফিসার লোকমান হাকিম জানান, খবর পাওয়ার পরপরই তাদের দল ঘর্টনাস্থলে পৌছে উদ্ধার কাজ শুরু করেন।বাসের নিচে চাপা পড়া রিক্তা বেগমের মরদেহ উদ্ধারের পাশাপাশি আহত পনের জন যাত্রীকে দ্রুত উদ্ধার করে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্হ্য কম্পলেক্সে ও গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে পাঠানো হয়।
এদিকে পলাশবাড়ী থানার অফিসার ইনচাজ প্রদীপ কুমার নিশ্চিত করেছেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহত রিক্তা বেগমের লাশ ইতোমধ্যে তার পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আহতদের নাম ঠিকানা জানা যায়নি।




Comments