Image description

পিএসসির আলোচিত ড্রাইভার আবেদ আলীর গল্পকেও যেন হার মানিয়েছেন ভোলার মো. ওমর ফারুক। এলাকায় তিনি ‘ফারুক ক্যাশিয়ার’ নামেই পরিচিত। ১৯৮৮ সালে মাত্র ৭০০ টাকা মূল বেতনে স্বাস্থ্য সহকারী পদে কর্মজীবন শুরু করলেও বর্তমানে তিনি প্রায় শতকোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক বলে অভিযোগ উঠেছে। ভোলার লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ক্যাশিয়ার পদে কর্মরত এই ব্যক্তির অঢেল সম্পদ নিয়ে এখন জেলাজুড়ে তোলপাড় চলছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, চাকুরির শেষ পর্যায়ে ওমর ফারুকের সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক হওয়ার কথা থাকলেও দুর্নীতির মাধ্যমে তিনি ক্যাশিয়ার পদটি বাগিয়ে নেন। চলতি বছরের ডিসেম্বরে তার অবসরে যাওয়ার কথা। তজুমদ্দিন উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের এই বাসিন্দা স্ত্রী, সন্তান ও নিকটাত্মীয়দের নামে দেশের বিভিন্ন স্থানে গড়েছেন সম্পদের পাহাড়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ক্ষমতার অপব্যবহার করে তজুমদ্দিনের চাঁদপুরে সংখ্যালঘু পরিবারের জমি দখলসহ বিশাল এলাকাজুড়ে বাগান, খামার ও পুকুর নিজের কব্জায় নিয়েছেন ফারুক। তজুমদ্দিন সদর, চরফ্যাশন, দক্ষিণ আইচা এবং নারায়ণগঞ্জের ফুলতলায় কয়েক কোটি টাকার জমি রয়েছে তার। এছাড়া ঢাকার মিরপুরের দুয়ারীপাড়ায় স্ত্রী মনোয়ারা বেগমের নামে একটি বহুতল ভবন গড়ে তুলেছেন তিনি।

তজুমদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থাকাকালীন রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি একক রাজত্ব কায়েম করেছিলেন বলে জানা যায়। নানা অনিয়মের অভিযোগে তাকে লালমোহনে বদলি করা হলেও সেখানেও তার কর্মকাণ্ড বিতর্কিত হয়ে পড়ে। সম্প্রতি লালমোহন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুকুরের মাছ চুরির ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে তার নাম আবারও আলোচনায় আসে।

স্বাস্থ্য বিভাগের একজন সামান্য কর্মচারী হয়ে কীভাবে এত বিশাল অর্থ-বিত্তের মালিক হলেন, তা নিয়ে সচেতন মহলের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে তার সম্পদের সঠিক তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ওমর ফারুকের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। জানা গেছে, অভিযোগ ওঠার পর তিনি দুই মাসের ছুটিতে গিয়ে বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন।

ভোলার সিভিল সার্জন ডা. মুনিরুল ইসলাম বলেন, "বিষয়টি সাংবাদিকদের মাধ্যমে জেনেছি। তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

মানবকণ্ঠ/ডিআর