Image description

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় একটি সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ তোলায় ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযোগকারীদের বসতবাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। 

সোমবার (১ জুন) উপজেলার দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়নের মুনিরজ্ঞাতি-নোয়াগাঁও এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের কাবিখা-কাবিটা প্রকল্পের আওতায় মুনিরজ্ঞাতি-নোয়াগাঁও সেনপুর থেকে মাস্টার ইউসুফ আলীর বাড়ি পর্যন্ত সড়কে মাটি ভরাটের জন্য ৩ লাখ ৮৪ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এই কাজের গুণগত মান ও অনিয়ম নিয়ে গত ১০ মে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দেন সুজন মিয়াসহ কয়েকজন গ্রামবাসী।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, সোমবার দুপুরে কয়েকজন সংবাদকর্মী অনিয়মের তথ্য সংগ্রহে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান এবং অভিযোগকারীদের বক্তব্য নেন। সাংবাদিকরা চলে যাওয়ার পরপরই ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবু বক্কর সিদ্দিক সেখানে উপস্থিত হন। অভিযোগ রয়েছে, চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতেই তার সমর্থকরা অভিযোগকারীদের বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

সংঘর্ষে নুর আলী, রহমত আলী, আহমদ আলী, জুয়েল, রুয়েল, কিরণ মিয়া, কাওসার আহমদ, আকরাম আলী, লিয়াকত আলীসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন। এদের মধ্যে গুরুতর আহত ৬ জনকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

আহত লিয়াকত আলী অভিযোগ করেন, "সড়কের কাজে দুর্নীতির তথ্য সাংবাদিকদের দেওয়ায় আওয়ামী লীগ নেতা কিরণ মিয়া বাধা দেন এবং পরবর্তীতে চেয়ারম্যানের নির্দেশে আমাদের ওপর পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে।" তবে সাবেক ইউপি সদস্য আখলু মিয়া দাবি করেন, তার ভাইকে গালিগালাজ করার প্রতিবাদ জানানোকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সূত্রপাত।

দক্ষিণ খুরমা ইউপি সদস্য দবির আহমদ বলেন, "আমি শুনেছি চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতেই তার লোকজন অভিযোগকারীদের বাড়িতে হামলা চালিয়েছে।"

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান আবু বক্কর সিদ্দিকের সাথে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, সংঘর্ষের বিষয়টি পুলিশ অবগত আছে। এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর