তীব্র গরমে পুড়ছে বগুড়ার শিবগঞ্জ ও নবগঠিত মোকামতলা উপজেলা। ভোরের আলো ফুরানোর আগেই আগুনের হল্কা ছড়াচ্ছে সূর্য। অসহ্য খরতাপ আর ভ্যাপসা গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। টানা কয়েকদিনের এই দাবদাহে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষ। প্রখর রোদে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি স্থবির হয়ে পড়েছে স্থানীয় কর্মচাঞ্চল্য।
নবগঠিত মোকামতলা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, তীব্র রোদের কারণে রাস্তাঘাট ও ফসলের মাঠে মানুষের চলাচল অনেকটাই কমে গেছে। একান্ত প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। যারা জীবিকার তাগিদে বাইরে বের হয়েছেন, তারা একটু পর পর গাছের ছায়ায় বিশ্রাম নিচ্ছেন। তৃষ্ণা মেটাতে পথচারীদের ভিড় বাড়ছে ঠান্ডা পানি ও শরবতের দোকানে। শরীরের অস্বস্তি কমাতে অনেকের হাতেই শোভা পাচ্ছে হাতপাখা।
তীব্র এই গরমে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শিশু ও বয়স্করা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সূর্যের তাপ যেন আগুনের মতো শরীরে এসে লাগছে। ফলে দুপুরের দিকে পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে উঠছে।
মোকামতলার পাকুড়তলা এলাকার রিকশাচালক আনোয়ার হোসেন বলেন, "সকালে গরম কিছুটা কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আর রিকশা চালানো যায় না। ঘেমে জামাকাপড় ভিজে যায়। অসহ্য গরমে যাত্রীও পাওয়া যাচ্ছে না; প্রয়োজন ছাড়া কেউ রাস্তায় বের হচ্ছে না।"
মাঠে কাজ করতে আসা তালিবপুর গ্রামের কৃষক চান মিয়া বলেন, "ভোর থেকে মাঠে নামি। কিন্তু সূর্য মাথার ওপরে উঠলেই কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ে। শরীর ঘেমে অবশ হয়ে আসে, মাথা ঝিমঝিম করে। তারপরও সংসারের তাগিদে এই কষ্টের মধ্যেই কাজ করতে হচ্ছে।"
স্থানীয়রা জানান, ভ্যাপসা গরম আর প্রচণ্ড রোদে ঘরে-বাইরে কোথাও স্বস্তি নেই। বৃষ্টির অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন এ অঞ্চলের মানুষ।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments