Image description

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্বরে জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য স্থাপিত একমাত্র পানির ট্যাপটি উদ্বোধনের পর থেকেই কার্যত অচল হয়ে পড়ে আছে। ফলে উপজেলা পরিষদে বিভিন্ন সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ বিশুদ্ধ পানির সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে পানির এই উৎসটি বিকল থাকলেও তা সচল করার কোনো কার্যকর উদ্যোগ দৃশ্যমান নয় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

অনুসন্ধানে জানা যায়, করোনাকালীন সময়ে উপজেলা ভূমি অফিসের প্রধান ফটকের সামনে জনসাধারণের হাত ধোয়া ও বিশুদ্ধ পানির চাহিদা মেটাতে এই ট্যাপটি স্থাপন করা হয়েছিল। তবে স্থানীয়দের দাবি, উদ্বোধনের মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই এটি অচল হয়ে যায়। এরপর দীর্ঘ সময় পার হলেও এটি আর সংস্কার বা ব্যবহারের উপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রতিদিন উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে সেবা নিতে শত শত মানুষের সমাগম হয়। চত্বরে মডেল মসজিদ ছাড়া উন্মুক্তভাবে বিশুদ্ধ পানির অন্য কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা সেবাপ্রার্থীদের তৃষ্ণা মেটাতে বাইরে থেকে পানি কিনে খেতে হচ্ছে।

ব্রহ্মগাছা ইউনিয়ন থেকে আসা সেবাপ্রার্থী মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, “বিভিন্ন কাজে উপজেলা পরিষদে এসে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। এ সময় পানির প্রয়োজন হলে বাইরে গিয়ে কিনে খেতে হয়। চত্বরের ট্যাপটি সচল থাকলে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের অনেক উপকার হতো।”

রায়গঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও প্রবীণ সাংবাদিক এস এম নজরুল ইসলাম বলেন, “উপজেলা চত্বরে আসা সাধারণ মানুষের জন্য বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা থাকা অত্যন্ত জরুরি। দীর্ঘদিন ধরে একটি জনগুরুত্বপূর্ণ ট্যাপ অচল থাকা দুঃখজনক। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের এক কর্মচারী দাবি করেন, প্রকল্পটি অনেকটা নামমাত্র উদ্বোধন করা হয়েছিল, যা শুরু থেকেই কার্যত অচল ছিল।

এ বিষয়ে রায়গঞ্জ উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান বলেন, “আমি যোগদানের আগেই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছিল। এটি দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আব্দুল খালেক পাটোয়ারী বলেন, “জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিসের কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

উপজেলা চত্বরে আসা সেবাপ্রার্থীদের আশা, জনস্বার্থ বিবেচনা করে দ্রুত এই পানির ট্যাপটি সচল করা হবে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর