কলাপাড়ায় খেয়াঘাটে যাত্রীদের জিম্মি করে দ্বিগুণ ভাড়া আদায়ের অভিযোগ
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার বিভিন্ন খেয়াঘাটে যাত্রীদের জিম্মি করে নিয়মবহির্ভূতভাবে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে ইজারাদারদের বিরুদ্ধে। জনপ্রতি ভাড়া ৫ টাকা নির্ধারিত থাকলেও বছরের পর বছর ধরে ১০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। এমনকি সন্ধ্যার পর এই ভাড়া ২০ টাকা পর্যন্ত ঠেকছে। অতিরিক্ত ভাড়া দিতে প্রতিবাদ করলে যাত্রীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও মারধরের ঘটনাও ঘটছে বলে জানা গেছে।
উপজেলার সোনাতলা নদীর তেগাছিয়া খেয়াঘাটসহ একাধিক ঘাটে এ চিত্র এখন নিত্যনৈমিত্তিক। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন গড়ে অন্তত ৪০০ যাত্রী তেগাছিয়া খেয়াঘাট দিয়ে পারাপার হন। প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫ টাকা করে অতিরিক্ত আদায় করায় দৈনিক প্রায় ২ হাজার টাকা এবং বছরে অন্তত ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা অবৈধভাবে পকেটে ভরছে ইজারাদার চক্র।
ভুক্তভোগী যাত্রীদের অভিযোগ, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শুরু হওয়া এই অবৈধ ভাড়া আদায়ের প্রথা রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও বন্ধ হয়নি। ইজারাদাররা প্রভাবশালী হওয়ায় সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ করার সাহস পায় না। এছাড়া ঘাটের মাঝিরা অনেক সময় তাস বা লুডু খেলায় মত্ত থাকেন, খেলা শেষ না হওয়া পর্যন্ত যাত্রীদের অপেক্ষায় থাকতে হয়। রাত ৮টার পর পারাপারের ক্ষেত্রে কোনো নিয়ম মানে না তারা; যার কাছ থেকে যতটুকু সম্ভব টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়।
অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে খেয়ার মাঝি ও ভাড়া আদায়কারী রাকিবুল গাজী সাফ জানিয়ে দেন, ‘আগেও ১০ টাকা নিছে, আমরাও ১০ টাকা নিচ্ছি। এর বাইরে কোনো কথা নেই।’
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলার ২০টি খেয়াঘাট ইজারা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে তেগাছিয়া খেয়াঘাটের ইজারা নিয়েছেন মো. দেলোয়ার হোসেন।
এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কাউছার হামিদ বলেন, ‘বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে ওই ইজারাদারকে অফিসে তলব করা হয়েছে। শুধু এই ঘাটই নয়, প্রতিটি খেয়াঘাটে যাত্রী পারাপারের নির্ধারিত রেটচার্ট টানানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে যাতে কেউ অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করতে না পারে।’
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments