Image description

শরীয়তপুরের জাজিরায় সরকারি অফিসের সময়সূচি মেনে এবং নামের পাশে ভুয়া ডিগ্রি ব্যবহার করে দীর্ঘ তিন বছর ধরে চিকিৎসাবাণিজ্য চালিয়ে আসছেন মো. মাসুদ রানা নামের এক ব্যক্তি। নিজেকে পল্লী চিকিৎসক দাবি করলেও তার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি নেই। 

অভিযোগ রয়েছে, অনুমোদনহীন একটি ‘ম্যাজিক মেশিন’ ব্যবহার করে রোগীর শরীরে স্পর্শ করেই মুহূর্তের মধ্যে বিভিন্ন রোগ শনাক্ত করার দাবি করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) জাজিরার নাওডোবা এলাকায় ওই ব্যক্তির চেম্বারে সরেজমিনে গিয়ে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্যের সন্ধান পায় প্রতিবেদক টিম।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে নাওডোবার আলম ব্যাপারীর প্রজেক্টের ভেতরে একটি বাসা ভাড়া নিয়ে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার নামে কার্যক্রম চালাচ্ছেন মাসুদ রানা। বাসার একপাশে রোগী দেখার চেম্বার এবং অন্যপাশে ফার্মেসি স্থাপন করেছেন তিনি। এর আগে মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার মুন্সিরহাট এলাকায় একই ধরনের চেম্বার পরিচালনা করতেন। সেখানে অনুমোদনহীন মেশিন ব্যবহার করে প্রতারণার অভিযোগে প্রশাসন তাকে জরিমানা করে এবং ব্যবহৃত মেশিন জব্দ করে। পরে তিনি শিবচর ছেড়ে জাজিরায় এসে পুনরায় একই কার্যক্রম শুরু করেন।

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শতাধিক রোগী ৫০০ টাকা ভিজিট দিয়ে টোকেন সংগ্রহ করে লাইনে দাঁড়িয়ে চিকিৎসার অপেক্ষা করছেন। তবে চেম্বারে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়েই বদলে যায় পরিস্থিতি। রোগীদের অপেক্ষায় রেখেই তড়িঘড়ি করে সেখান থেকে সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন মাসুদ রানা।

একপর্যায়ে তাকে চেম্বারের বাইরে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে ক্যামেরার সামনে নিজের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য স্বীকার করেন তিনি। মাসুদ রানা বলেন, চিকিৎসাসেবা দেওয়ার মতো কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বা একাডেমিক ডিগ্রি তার নেই। তিনি সাধারণ শিক্ষায় পড়াশোনা করেছেন। তবে তার বাবা পল্লী চিকিৎসক হওয়ায় বাবার কাছ থেকে ওষুধের নাম ও ব্যবহার সম্পর্কে কিছু ধারণা পেয়েছেন। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই তিনি রোগী দেখছেন বলে জানান।

স্থানীয় ইউপি সদস্য কামাল ব্যাপারী বলেন, “আমাদের প্রজেক্টে একজন ডাক্তার রোগী দেখেন বলে শুনেছি। তবে আমার জানা মতে তার কোনো স্বীকৃত ডিগ্রি নেই। তাই আমার পরিচিত কেউ সেখানে যেতে চাইলে আমি তাদের নিরুৎসাহিত করি।”

প্রতারণার শিকার স্থানীয় বাসিন্দা পলি আক্তার বলেন, “প্রথমে আমাদের বাসার পাশেই চেম্বার নিয়েছিল। চিকিৎসার নামে নানা প্রতারণা করায় এলাকাবাসী একজোট হয়ে তাকে সেখান থেকে সরিয়ে দেয়। পরে সে প্রজেক্টের অন্য প্রান্তে নতুন করে চেম্বার চালু করে। প্রশাসনের উচিত তার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া।”

এ বিষয়ে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রোমান বাদশা বলেন, “একজন পল্লী চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন দেওয়ার কোনো আইনি সুযোগ নেই। এছাড়া রোগ নির্ণয়ের জন্য যে ডিভাইস বা মেশিন ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটিরও বাংলাদেশে কোনো অনুমোদন নেই। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং জনস্বার্থে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসার নামে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসা এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ও আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে ভবিষ্যতে আর কেউ এমনভাবে মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে পারবে না।