Image description

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় দিন-রাত সমানতালে চলছে ভয়াবহ লোডশেডিং। ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। ভ্যাপসা গরমে বাসাবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্বাভাবিক কাজকর্ম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, রোগী ও শ্রমজীবী মানুষ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনে ও রাতে বারবার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। সন্ধ্যার পর লোডশেডিং শুরু হলে মোমবাতি জ্বালিয়ে পড়ার টেবিলে বসতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। ১০-১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু ও বৃদ্ধদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে।

বকশীগঞ্জ হাসপাতালের চিত্র আরও ভয়াবহ। চিকিৎসাধীন রোগী ও তাদের স্বজনরা জানান, বিদ্যুৎহীন অবস্থায় হাসপাতালে ভ্যাপসা গরমে টেকা দায় হয়ে পড়েছে, যা রোগীদের সুস্থ হওয়ার প্রক্রিয়ায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল ফটোকপি, কম্পিউটার কম্পোজ, মোবাইল সার্ভিসিং ও ওয়েল্ডিংয়ের মতো ছোট-বড় প্রতিষ্ঠানগুলো আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে। এছাড়া ঘনঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার ফলে ফ্রিজ, টেলিভিশন ও কম্পিউটারের মতো মূল্যবান বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

পৌর শহরের ব্যবসায়ী রাজু মিয়া বলেন, "বিদ্যুৎ না থাকায় গ্রাহকসেবা ব্যাহত হচ্ছে এবং আমাদের আয় অর্ধেকে নেমে এসেছে।" এক শিক্ষার্থী জানায়, সামনে পরীক্ষা ও শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে, কিন্তু নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না থাকায় রাতে পড়াশোনা করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে বকশীগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম আকবর হোসেন মিঞা বলেন, "চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ না পাওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিরলসভাবে কাজ করছে।"

দ্রুত বিদ্যুৎ বিভ্রাট কমিয়ে জনজীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন বকশীগঞ্জবাসী।

মানবকণ্ঠ/ডিআর