Image description

শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণের একটি নির্দিষ্ট স্থানে মাটি অস্বাভাবিকভাবে গরম হয়ে ওঠায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র কৌতূহল ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। গত দুই দিনেরও বেশি সময় ধরে হাসপাতালের প্রধান প্রবেশপথের পাশে প্রায় ৫০ ফুট এলাকা জুড়ে এই রহস্যজনক তাপ অনুভূত হচ্ছে।

শনিবার (৬ জুন) বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স। তারা মাটিতে গর্ত করে পানি ঢেলে তাপমাত্রা কমানোর চেষ্টা করছে। তবে বারবার পানি প্রয়োগের পরও মাটি পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরছে না, বরং মাটির গভীর স্তর থেকে তাপ বেরিয়ে আসছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, কয়েক দিন আগে প্রথমবারের মতো ওই স্থানে মাটি গরম থাকার বিষয়টি নজরে আসে। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে উৎসুক মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। 

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাফিজুর রহমান মিয়া বলেন, "বিষয়টি জানার পরপরই প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস এবং বিদ্যুৎ বিভাগকে অবহিত করেছি। রোগী ও কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওই স্থানটি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।"

প্রাথমিক তদন্তে বিদ্যুৎ সংক্রান্ত কোনো ত্রুটির প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম মো. আব্দুল মতিন। তিনি বলেন, "প্রকৌশলীরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিদ্যুৎ লিকেজ বা লাইনের কোনো সমস্যা শনাক্ত করতে পারেননি। তবুও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ওই এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে।"

গোসাইরহাট ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা এ বি এম বাসার জানান, পানি প্রয়োগের পরও তাপমাত্রা পুরোপুরি কমছে না। প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে ভূতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞদের মতামত ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শেখ নওসাদ হাসান বলেন, "ঘটনার উৎস শনাক্ত করতে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় রহস্যজনক এই তাপের কারণ অনুসন্ধান করা হবে।"

দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করে জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

মানবকণ্ঠ/ডিআর