হাতিয়ায় কিশোরীকে ধর্ষণ ও হত্যার হুমকির অভিযোগে পুলিশ পরিদর্শক প্রত্যাহার
নোয়াখালীর হাতিয়ায় ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে জাহাজমারা পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ (আইসি) পরিদর্শক খোরশেদ আলমকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
শনিবার (১৩ জুন) রাতে জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) টি.এম. মোশাররফ হোসেন স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়।
ভুক্তভোগী কিশোরীর অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় ছয় মাস আগে জাহাজমারা পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের মেসে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন পরিদর্শক খোরশেদ আলম। কিশোরীর মা ও ভাই ওই তদন্তকেন্দ্রের মেসে রান্নার কাজ করতেন, সেই সুবাদে সে সেখানে যাতায়াত করত। অভিযোগ রয়েছে, ঘর পরিষ্কার বা কাপড় গুছিয়ে দেওয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাকে ধর্ষণ করা হতো। বাধা দিলে কিশোরী ও তার মাকে হত্যার হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি প্রলোভন দেখিয়ে চুপ রাখার চেষ্টা করা হতো।
চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি কিশোরী বিষয়টি তার মাকে জানালে তারা হাতিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ করেন। তবে ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, অভিযুক্তের পক্ষ নিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তি তাদের ভয় দেখিয়ে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। এরপর থেকে গত চার মাস ধরে তারা আতঙ্কে আত্মগোপনে ছিলেন।
সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আবারও আলোচনায় আসে। হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন জানান, ভিডিওটি নজরে আসার পরই উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে পরিদর্শক খোরশেদ আলম দাবি করেছেন, এটি তার বিরুদ্ধে একটি গভীর ষড়যন্ত্র। তিনি বলেন, 'এক এসআইয়ের বদলিকে কেন্দ্র করে আমাকে সামাজিকভাবে হেয় করতে কাজের মেয়েকে দিয়ে ভুয়া ভিডিও বানানো হয়েছে।'
নোয়াখালীর পুলিশ সুপার জানান, এর আগেও একবার এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া গিয়েছিল, তবে তখন তদন্তে সত্যতা মেলেনি। সাম্প্রতিক সময়ে ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর স্বচ্ছ তদন্তের স্বার্থে তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পুনরায় যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments