মাদারীপুরে রেস্টুরেন্টের খাবার খেয়ে ১৬ জন হাসপাতালে, আশঙ্কাজনক ২
মাদারীপুর শহরের একটি রেস্টুরেন্টের খাবার খেয়ে একই পরিবারের চারজনসহ ১৬ জন গুরুতর ফুড পয়জনিংয়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে দুই কিশোরীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
শুক্রবার (১২ জুন) রাত থেকে শনিবার (১৩ জুন) দুপুর পর্যন্ত মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে এই রোগীরা ভর্তি হন।
শহরের পুরানবাজার এলাকার ‘আরএফসি রেস্টুরেন্টের’ খাবার খেয়ে তারা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অসুস্থদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন— ১ নম্বর শকুনি এলাকার হাফসা, জান্নাত, ফাতেমা, জেসমনি; পুরানবাজার এলাকার কুতুবউদ্দিন, রোকসানা, নাবিল; পাঁচখোলার রাবিক, তালতলার ইব্রাহীম, ঘটমাঝির তানিয়া এবং শরীয়তপুরের সাইফ হোসেন। তবে কুলপদ্বী এলাকার সুমাইয়া আক্তার (১৭) ও মিম আক্তারের (১৫) অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
ভুক্তভোগী ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে আরএফসি রেস্টুরেন্টে নান রুটি ও গ্রিল খেয়ে রাত থেকেই আক্রান্তরা বমি ও পাতলা পায়খানায় ভুগতে থাকেন। তালতলা এলাকার রকিবউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমার একই পরিবারের চারজন অসুস্থ। আমরা সবাই আরএফসিতে খেয়েছিলাম। নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তরের কাছে আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আরএফসি রেস্টুরেন্টের মালিক রাহাত ব্যাপারী বলেন, ‘আমার রেস্টুরেন্টে প্রতিদিন কয়েকশ মানুষ গ্রিল খায়। খাবারে সমস্যা থাকলে সবার অসুস্থ হওয়ার কথা ছিল। এটি আমার ব্যবসায়িক সুনাম নষ্ট করার কোনো ষড়যন্ত্র কি না তা খতিয়ে দেখা দরকার। তবুও আমরা ভবিষ্যতে আরও সতর্ক থাকবো।’
মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. অখিল সরকার বলেন, ‘শুক্রবার রাত থেকে ফুড পয়জনিং নিয়ে অনেক রোগী ভর্তি হয়েছেন। তারা সবাই রেস্টুরেন্টের খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়েছেন বলে জানিয়েছেন। তাদের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’
নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তর মাদারীপুর কার্যালয়ের কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, ‘এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। তবে বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সাথে নজরে রাখছি। রেস্টুরেন্টটি পরিদর্শন করে খাবারের নমুনা সংগ্রহ করা হবে। সত্যতা পাওয়া গেলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments