Image description

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার সোনারামপুর (কলাবাগান) এলাকায় ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরী গণধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে এই ঘটনা ঘটলেও অভিযুক্তদের হত্যার হুমকির ভয়ে বিষয়টি এতদিন প্রকাশ পায়নি। গত শনিবার বিকেলে ওই কিশোরীকে আশুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য নিয়ে গেলে বিষয়টি জানাজানি হয়। বর্তমানে ভুক্তভোগী কিশোরী ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কিশোরীর শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল। তার প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে। এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে আশুগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

ভুক্তভোগী কিশোরীর পরিবার জানায়, তারা গত কয়েক বছর ধরে আশুগঞ্জের সোনারামপুর এলাকায় ভাড়া থেকে ডাইং মিলের শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে ওই কিশোরী পাশের দোকান থেকে রুটি কিনতে বের হয়। এ সময় একই এলাকার ভাড়াটিয়া ইকরাম (১৯) ও মো. জাকারিয়া (১৮) তাকে ডেকে একটি ৫ তলা ভবনের নিচতলায় নিয়ে যায়। সেখানে আগে থেকেই উপস্থিত ছিল তাদের আত্মীয় অনিক। তারা কিশোরীর হাত-পা বেঁধে পাশবিক নির্যাতন চালায়।

কিশোরীর মা জানান, রাত ১০টার দিকে তিনি মেয়েকে খুঁজতে বের হয়ে ওই বাসার সামনে গেলে দীর্ঘক্ষণ পর তারা দরজা খোলে। তখন তারা কিশোরীর মুখ বেঁধে লুকিয়ে রেখেছিল। পরে তারা হুমকি দেয় যে, এই ঘটনা কাউকে জানালে কিশোরীসহ তার বাবা ও বোনকে হত্যা করা হবে। লোকলজ্জা ও প্রাণের ভয়ে প্রথমে বিষয়টি গোপন রাখলেও কিশোরীর শারীরিক অবস্থার অবনতি ও রক্তপাত শুরু হলে তাকে শনিবার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মো. সোহেল রানা জানান, কিশোরীটি বর্তমানে গাইনি বিভাগে ভর্তি। তার প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে এবং প্রতিবেদন যথাসময়ে কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।

আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ. কে. এম. শফিকুল আলম চৌধুরী বলেন, ‘আমরা ভুক্তভোগী পরিবারের সাথে কথা বলেছি। এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে পুলিশ পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করছে।’

মানবকণ্ঠ/ডিআর