Image description

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাদের ওপর একাধিক দপ্তরের বাড়তি দায়িত্ব অর্পণ করায় প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে কর্মকর্তাদের এমন ‘অতিরিক্ত দায়িত্ব’ পালনের ফলে কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ, যার ফলে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুস্মিতা সাহা একযোগে ভূমি অফিস ও লোহাগড়া পৌরসভার প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন। সপ্তাহের দিনগুলো ভাগ করে দুটি বড় দপ্তর সামলাতে গিয়ে নামজারি, খাজনা ও প্রশাসনিক কাজে দীর্ঘসূত্রিতা দেখা দিচ্ছে। এ বিষয়ে সুস্মিতা সাহা বলেন, "কষ্ট হলেও দুটি অফিসের কাজ সমন্বয় করে যথাসাধ্য পালনের চেষ্টা করছি।"

এদিকে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফারজানা আক্তার দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় দাপ্তরিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মুনমুন সাহা, যার ফলে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও প্রণোদনা কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

অন্যদিকে, লোহাগড়া উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকৌশলী কাজী আবু সাঈদ মোহাম্মদ জসিমকে গত ৯ জুন থেকে জেলার আরেকটি উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে উন্নয়ন প্রকল্প ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজ তদারকিতে হিমশিম খাচ্ছেন তিনি। এ ছাড়াও উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তাকে লোহাগড়া ও নড়াইল সদর—এই দুই উপজেলার দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে, যা আর্থিক ও বিল-ভাউচার নিষ্পত্তির কাজে ধীরগতি সৃষ্টি করছে।

ভুক্তভোগী স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলোতে স্থায়ী কর্মকর্তা না থাকায় জরুরি কাজে এসে প্রায়ই তাদের ফিরে যেতে হচ্ছে। এতে সময় ও অর্থের অপচয় হচ্ছে চরমভাবে। দ্রুত শূন্য পদ পূরণ ও অতিরিক্ত দায়িত্বের বোঝা কমানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাম্মী কায়সার বলেন, "জনবল সংকটের কারণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সাময়িকভাবে অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান করেছে। বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আছে। আশা করছি, দ্রুত পদায়নের মাধ্যমে এই সংকটের সমাধান হবে এবং নাগরিকরা দ্রুত সেবা পাবেন।"

মানবকণ্ঠ/ডিআর