ধনবাড়ীতে চায়না দুয়ারি জালের ফাঁদে দেশি মাছ, অস্তিত্ব সংকটে জলজ প্রাণী
টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার নদী ও বিলগুলোতে নিষিদ্ধ ‘চায়না দুয়ারি’ বা রিং জালের অবাধ ব্যবহারে হুমকির মুখে পড়েছে দেশীয় প্রজাতির মাছ ও জলজ জীববৈচিত্র্য। কার্যকর নজরদারির অভাবে বংশাই, ঝিনাই, বৈরান নদীসহ হামিল বিল ও বিলদুবলাই এলাকায় এই জালের ব্যবহার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার যদুনাথপুর, পাইস্কা এবং বিভিন্ন বিলে এক শ্রেণির অসাধু মানুষ এই নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে নির্বিচারে মাছ শিকার করছে। সোমবার (১৫ জুন) সরেজমিনে দেখা গেছে, বর্ষার পানি বাড়ার সাথে সাথে নদী ও বিলের বিভিন্ন অংশে এই জাল পেতে রাখা হয়েছে।
মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই জালের ছিদ্র অত্যন্ত ছোট হওয়ায় বড় মাছের পাশাপাশি রেণু পোনা, মাছের ডিম এবং ছোট ছোট জলজ প্রাণীও এতে আটকা পড়ে মারা যায়। ফলে মাছের স্বাভাবিক প্রজনন চক্র পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এক সময়ের মাছের ভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত এই অঞ্চলের নদীগুলোতে এখন মাছের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে।
এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে স্থানীয় জেলে সম্প্রদায়ের ওপর। প্রচলিত পদ্ধতিতে মাছ শিকার করা জেলেরা এখন আর আগের মতো মাছ পাচ্ছেন না। ফলে উপজেলার প্রায় শতাধিক পেশাদার জেলে পরিবার জীবিকা সংকটে পড়েছে এবং অনেকেই বাধ্য হয়ে পৈতৃক পেশা পরিবর্তন করছেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে স্থানীয় হাট-বাজারগুলোতেও প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে এই ক্ষতিকর রিং জাল।
এ বিষয়ে ধনবাড়ী উপজেলা অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত মৎস্য কর্মকর্তা সৌরভ কুমার দে বলেন, "নিষিদ্ধ জালের বিরুদ্ধে আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। সম্প্রতি হামিল বিল ও বিলদুবলাই এলাকায় মাইকিং ও অভিযান চালানো হয়েছে। অন্য নদী ও এলাকায় সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments