কক্সবাজারের চকরিয়ায় নিখোঁজের একদিন পর সাত বছর বয়সী এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শিশুটিকে বলাৎকারের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিন যুবককে আটক করেছে পুলিশ।
নিহত শিশুর নাম ওয়াহিদুল ইসলাম (৭)। সে উপজেলার পূর্ব বড়ভেওলা ইউনিয়নের মাইজপাড়া গ্রামের তৌহিদুল ইসলাম লিটনের ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (১৫ জুন) সন্ধ্যার পর থেকে ওয়াহিদুল নিখোঁজ ছিল। স্বজনরা অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে বাড়ির পাশের ফজুমিয়াজিরচর এলাকার একটি পরিত্যক্ত ডোবায় (ছোট খাল) শিশুটির মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে চকরিয়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার অভিজিৎ দাশ ও চকরিয়া থানার ওসি মনির হোসেনসহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ স্থানীয় তিন যুবককে আটক করেছে। তারা হলো—মাইজপাড়া গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে মানিক (প্রকাশ কাবিলা), আজিজের ছেলে তারেক এবং আরমান।
পূর্ব বড়ভেওলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ জানান, নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চরম উত্তেজনা ও শোকের ছায়া নেমে আসে। তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।
মাতামুহুরী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক মোহাম্মদ মাসুদ বলেন, "প্রাথমিক তদন্তে শিশুটিকে বলাৎকারের পর হত্যা করা হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। আটক তিন যুবক পুলিশের কাছে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অপরাধের কথা স্বীকার করেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।"
এই নৃশংস ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments