রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলায় জামায়াত কর্মী মো. আশাদুল ইসলাম (২৪) হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যারা ইতোমধ্যে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—কালুখালীর মদাপুর এলাকার মিজান শেখ (২৪), রতনদিয়ার আনোয়ার মন্ডল (৪৪) এবং সূর্যদিয়ার আব্দুল করিম মোল্লা (৩৫)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার (১৫ জুন) সকালে মদাপুর ইউনিয়নের একটি পাটখেত থেকে আশাদুলের হাত-পা বাঁধা ও অগ্নিদগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত আশাদুল উপজেলার বিল মানুষমারি গ্রামের শাহজাহান মন্ডলের ছেলে। তিনি স্থানীয় জামায়াত কর্মী ছিলেন বলে নিশ্চিত করেছেন জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম। এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে নিন্দা জানিয়েছে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটি।
তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, প্রায় চার মাস আগে আশাদুল ইসলাম গ্রেপ্তারকৃত মিজান শেখের কাছ থেকে ৬৮ হাজার টাকা ধার নিয়েছিলেন। নির্ধারিত সময়ে টাকা পরিশোধ করতে না পারায় মিজানের সঙ্গে তার বিরোধ সৃষ্টি হয়। এর জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে আশাদুলকে হত্যা করা হয়। পরে আলামত নষ্ট ও পরিচয় আড়াল করতে মরদেহে আগুন ধরিয়ে দেয় ঘাতকরা।
পাংশা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার দেবব্রত সরকার জানান, কালুখালী থানা ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের যৌথ অভিযানে তিন আসামিকে নিজ নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। হত্যাকাণ্ডে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments