মানবকন্ঠে সংবাদ প্রকাশের পর সংস্কার হলো করতোয়ার সেই ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার সরাইদহ এলাকায় করতোয়া নদীর ওপর জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকোটি অবশেষে সংস্কার করা হয়েছে। দৈনিক মানবকন্ঠে এ নিয়ে সচিত্র সংবাদ প্রকাশের পর টনক নড়ে স্থানীয়দের। ফলে দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগ লাঘবে নেওয়া উদ্যোগের পর সংস্কারকাজ শেষ হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে আশপাশের ১০ গ্রামের মানুষের মাঝে।
উল্লেখ্য, দৈনিক মানবকণ্ঠ পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে গত ১১ এপ্রিল ‘স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও হয়নি সেতু, করতোয়ার বাঁশের সাঁকোই ১০ গ্রামের ভরসা’ এবং প্রিন্ট সংস্করণে ১৪ এপ্রিল ‘বাঁশের সাঁকোই ভরসা ১০ গ্রামের মানুষের’ শিরোনামে সবিস্তারে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের অবর্ণনীয় কষ্ট ও প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে চলাচলের বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরা হলে তা ব্যাপক জনমত তৈরি করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরাইদহ, লক্ষ্মীকোলা, খোকশাহাট, পাইকোরাসহ আশপাশের অন্তত ১০টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ প্রতিদিন এই পথ দিয়ে যাতায়াত করেন। স্থায়ী সেতুর অভাবে এলাকাবাসী নিজেদের উদ্যোগে একটি বাঁশের সাঁকো তৈরি করলেও তা অত্যন্ত নড়বড়ে হয়ে পড়েছিল। ফলে শিক্ষার্থী, রোগী ও ব্যবসায়ীরা চরম বিপাকে ছিলেন।
সংবাদ প্রকাশের পর জনস্বার্থ বিবেচনা করে চান্দাইকোনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. তরিকুল ইসলাম স্থানীয়দের সহযোগিতায় ও নিজস্ব অর্থায়নে সাঁকোটি সংস্কারের উদ্যোগ নেন। স্বেচ্ছাসেবক ও গ্রামবাসীর সম্মিলিত পরিশ্রমে ক্ষতিগ্রস্ত অংশে নতুন বাঁশ সংযোজন করে এটি পুনরায় চলাচলের উপযোগী করা হয়।
উদ্যোক্তা মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, “মানবকন্ঠে সংবাদটি দেখে আমাদের এলাকার মানুষের কষ্টের গভীরতা বুঝতে পারি। সংবাদের কারণে বিষয়টি সবার নজরে আসায় আমরা দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নিই। তবে এটি সাময়িক ব্যবস্থা, আমাদের মূল দাবি একটি টেকসই পাকা সেতু।”
স্থানীয় বাসিন্দা মো. আল আমিন বলেন, “আগে এই সাঁকো দিয়ে চলাচল করতে ভয় করত। এখন সংস্কার হওয়ায় কিছুটা দুশ্চিন্তা মুক্ত হয়েছি। আমাদের এই দুর্ভোগের কথা কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়ায় মানবকণ্ঠকে ধন্যবাদ জানাই।”
এলাকাবাসীর দাবি, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও এই জনপদে কোনো পাকা সেতু নির্মাণ হয়নি। তাই যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনের স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে তারা সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments