বরিশালের আগৈলঝাড়ায় গ্রেপ্তারকৃত আসামির মৃত্যুর গুজবকে কেন্দ্র করে থানায় হামলা, ভাঙচুর ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নারী-পুরুষসহ ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মামলার বাদী এসআই ওমর ফারুক ৪৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩০০ জনকে আসামি করেছেন।
শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার সন্ধ্যায় চুরি ও মাদকসহ একাধিক মামলার আসামি রিয়াজ ফকিরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। থানা হাজতে থাকা অবস্থায় রিয়াজ নিজের মাথায় আঘাত করে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তবে বৃহস্পতিবার দুপুরে এলাকায় রিয়াজ ফকিরের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় কয়েকশ মানুষ মিছিল নিয়ে থানায় হামলা চালায়। এসময় তারা থানায় ভাঙচুর করে এবং ডিউটি অফিসার এএসআই আব্দুল হালিমসহ পুলিশ সদস্যদের মারধর করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। এতে পুলিশের ৬ সদস্যসহ অন্তত ১২ জন আহত হন। গুরুতর আহত এএসআই আব্দুল হালিম বর্তমানে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
মামলার বাদী ওমর ফারুক জানান, হামলার ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতভর অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন—সিদ্দিক ফকির, শারমিন আক্তার, গিয়াস ফকির, সবুজ ফকির, মান্নান ফকির, রিফাত ফকির, নাইম ফকির, হাবিবুর রহমান, রাজু হাওলাদার, তাহমিনা বেগম, মনোয়ারা বেগম, আসমা আক্তার, মমতাজ বেগম, ঝুমুর বেগম, নাজমা আক্তার ও তানজিলা আক্তার।
ওসি মোহাম্মদ মাসুদ খান জানান, থানায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যের ভিত্তিতে হামলায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। গ্রেপ্তারকৃতদের শুক্রবার সকালে বরিশাল আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments