Image description

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার আমতলী এলাকায় সংস্কার কাজের নামে সাধারণ যাত্রীদের চরম ভোগান্তির অভিযোগ উঠেছে। দফায় দফায় মেয়াদ বাড়িয়েও কাজ শেষ না হওয়ায় এবং অসময়ে সংস্কার শুরু করার ফলে শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকাল থেকে মহাসড়কের ১০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে আমতলী অংশে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকামুখী লেনে বড় বড় গর্ত সংস্কারের কাজ শুরু করে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে যানবাহনের বাড়তি চাপের মধ্যে কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই এই সংস্কার কাজ শুরু করায় মুহূর্তেই সড়কে যানজট ছড়িয়ে পড়ে। পদুয়ার বাজার হাড়াতলী থেকে আমতলী সেনানিবাস এলাকা পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার জুড়ে যানবাহন স্থবির হয়ে পড়ে।

যানজটে আটকে পড়া এশিয়া পরিবহনের এক যাত্রী সোহাগ জানান, "প্রায় এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বাসে বসে আছি। গাড়ি সামনের দিকে এগোচ্ছে না। ছুটির দিনে পরিবার নিয়ে বাড়ি যাওয়ার পথে এমন দুর্ভোগ মেনে নেওয়া যায় না।" বিশেষ করে রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স ও দূরপাল্লার যাত্রীদের পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি।

অভিযোগ রয়েছে, সড়ক বিভাগ কুমিল্লার উদাসীনতা ও জনবল সংকটের কারণে মহাসড়কের এই গুরুত্বপূর্ণ অংশের কাজ খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। বিকল্প রাস্তা না থাকায় দীর্ঘক্ষণ আটকে থেকে গরমে হাঁপিয়ে উঠছেন সাধারণ মানুষ। স্থানীয়দের অভিযোগ, রুটিন সংস্কারের দোহাই দিয়ে সওজ কর্তৃপক্ষ তাদের ইচ্ছেমতো কাজ বন্ধ রাখে আবার হঠাৎ চালু করে, যা জনদুর্ভোগের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) কুমিল্লার পক্ষ থেকে জানানো হয়, "আমতলী এলাকায় সড়কে বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় যান চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। এটি আমাদের নিয়মমাফিক সংস্কার কাজ। আশা করছি কয়েক ঘণ্টার মধ্যে গর্ত ভরাট শেষ হলে যাত্রীরা নির্বিঘ্নে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন।"

তবে যাত্রীদের দাবি ভিন্ন। তাদের অভিযোগ, সংস্কারের নামে তালবাহানা করে সরকারি বাজেটের অপচয় করা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এবং মহাসড়কে নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সাধারণ মানুষ।

মানবকণ্ঠ/ডিআর