Image description

প্ল্যাটফর্মের শক্ত মেঝে। পেছনে পিলারে লেখা 'শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ শ্রাবণ'। ঠিক তার নিচে কদাচিৎ জমে থাকা এক চিলতে বালিশে মাথা রেখে শুয়ে আছে পাঁচ বছর বয়সী ছোট্ট শিশু ইয়াছিন আরাফাত। পাশে তাকে আগলে রেখেছেন বাবা ইদু মিয়া। খোলা আকাশের নিচে রেলস্টেশনের কনকনে ঠান্ডা কিংবা তীব্র গরম প্ল্যাটফর্মই যেন এই শিশুর মূল ঠিকানা।

মৌলিক অধিকারবঞ্চিত ছিন্নমূল শিশুদের জীবনসংগ্রামের চিত্র তুলে আনতে গিয়ে রবিবার (২৬ জুলাই) রাত ২টায় কুমিল্লা রেলওয়ে স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে দেখা মেলে হৃদয়বিদারক এই দৃশ্যের।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ইয়াছিন আরাফাতের বয়স যখন মাত্র এক বছর, তখন তার মা আয়েশা তাকে ছেড়ে অন্য জায়গায় বিয়ে করে চলে যান। অন্যদিকে বাবা ইদু মিয়া ব্যবসায় বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ে দেনা পরিশোধ করতে গিয়ে নিজের পৈতৃক ভিটা-মাটি বিক্রি করতে বাধ্য হন। এরপর থেকেই সহায়-সম্বলহীন হয়ে এক কাপড়ে শিশুটিকে নিয়ে প্ল্যাটফর্মে আশ্রয় নেন বাবা।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, গত ৪ বছর ধরে কুমিল্লা রেলওয়ে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মেই ইয়াছিন ও তার বাবা বসবাস করছেন। প্ল্যাটফর্মের 'মুসলিম টি স্টল'-এর কর্ণধার জানান, দিনজুড়ে শিশুটিকে নিয়ে তার বাবা স্টেশনে কুলির কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। আর রাত হলেই ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মের এক কোণে মাথা গোঁজার ঠাঁই হয় তাদের।

অভাবের সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে থাকা ৫ বছরের শিশু আরাফাতকেও পেটের দায়ে দিনের বেলায় ট্রেনের বগিতে প্লাস্টিকের বোতল কুড়ানো কিংবা হকারদের সাহায্য করার মতো কাজ করতে হয়।

পরিবারের গাফিলতি ও চরম দারিদ্র্যের শিকার হয়ে মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিশু আরাফাত। চোর, ছিনতাইকারী ও নানা সামাজিক নিরাপত্তার ঝুঁকির মধ্যেই প্রতি রাতে স্টেশনের খোলা মেঝেতে কাটে বাবা-ছেলের জীবন। মা হারিয়ে ছিন্নমূল হওয়া এই শিশুর শৈশব যেন হারিয়ে যাচ্ছে প্ল্যাটফর্মের নির্মম বাস্তবতায়।