পূবাইলে চুরির জেরে সৎ ভাইকে খুন, প্রধান আসামিসহ আটক ৪
গাজীপুর মহানগরের পূবাইলে অটোরিকশার ব্যাটারি চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে সৎ ভাইকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্তসহ চারজনকে আটক করেছে পূবাইল থানা পুলিশ।
রোববার (২৬ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পূবাইল এলাকার নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত জুয়েল মিয়ার পিতা জুলমাত খান।
অভিযোগ রয়েছে, তার সৎ ভাই চান মিয়া ওরফে রিংকু (২৩) এবং আরও কয়েকজন প্রথমে তাকে মারধর করে। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন।
পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা দ্রুত জুয়েলকে উদ্ধার করে টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি একটি অটোরিকশার ব্যাটারি চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে অভিযুক্ত পক্ষকে ৩০ হাজার টাকা পরিশোধের সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই ঘটনার জের ধরেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, নিহত ও অভিযুক্তদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল। তাদের দাবি, উভয় পক্ষই এলাকায় মাদক কেনাবেচাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে পরিচিত। এসব বিষয় নিয়েও তাদের মধ্যে উত্তেজনা ছিল বলে স্থানীয়রা জানান। তবে এ অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং বিষয়টি তদন্ত করছে পুলিশ।
ঘটনার পরপরই তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত চান মিয়া (রিংকু)সহ চারজনকে আটক করে পূবাইল থানা পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে একজন প্রধান আসামি, একজন সহযোগী এবং দুজন সন্দেহভাজন রয়েছেন।
পূবাইল থানার ওসি (তদন্ত) আবুবকর সিদ্দিক মানবকণ্ঠকে বলেন, অটোরিকশার ব্যাটারি চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযান পরিচালনা করে। পালিয়ে যাওয়ার সময় প্রধান আসামিসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রুহুল আমিন বলেন, প্রথমে টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে সুরতহাল কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান।




Comments