Image description

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আবারও দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে, ফলে বিশ্ববাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

সোমবার (৯ মার্চ) গ্রিনিচ মান সময় রাত ২টা ৩০ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান বেঞ্চমার্ক অপরিশোধিত তেল ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই)–এর দাম ব্যারেলপ্রতি ৩০ দশমিক ০৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ১১৮ দশমিক ২১ ডলারে। পরে কিছুটা কমলেও দাম উচ্চ অবস্থানেই রয়েছে।

একই সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারের আরেক প্রধান সূচক ব্রেন্ট ক্রুড–এর দাম ২৭ দশমিক ৫৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৮ দশমিক ২২ ডলারে পৌঁছায়।

তেলের দামের এই ঊর্ধ্বগতির বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, স্বল্পমেয়াদে তেলের দামের এই বৃদ্ধি ‘যুক্তরাষ্ট্র, বিশ্ব এবং শান্তির জন্য খুবই সামান্য মূল্য।’

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ‘ইরানের পারমাণবিক হুমকি ধ্বংস হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তেলের দাম দ্রুত কমে যাবে।’

এদিকে বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, পরিস্থিতি দ্রুত দীর্ঘমেয়াদি সংকটে রূপ নিচ্ছে। ডাচ ব্যাংক আইএনজি গ্রুপের পণ্য কৌশল বিভাগের প্রধান ওয়ারেন প্যাটারসন বলেন, শুরুতে অনেকেই ধারণা করেছিলেন এটি স্বল্প সময়ের অস্থিরতা হবে। কিন্তু এখন স্পষ্ট যে পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহন স্বাভাবিক না হচ্ছে, ততক্ষণ তেলের দাম আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’

উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি বড় তেল উৎপাদনকারী দেশ উৎপাদন কমিয়ে দেওয়ায় সরবরাহ সংকট আরও তীব্র হয়েছে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী প্রায় বন্ধ হয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ বাড়ছে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে আরও গভীরভাবে জড়ালে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। ইতিমধ্যে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য নতুন চাপ তৈরি করতে পারে।

সূত্র: এএফপি, আল আরাবিয়া