ইরানকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ খুলে দেওয়ার জন্য ৪৮ ঘণ্টার চূড়ান্ত সময়সীমা (আলটিমেটাম) বেঁধে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সময়ে ইসরায়েল যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর সরাসরি হামলার হুমকি দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। অন্যদিকে, ইসরায়েল সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছে যে, বর্তমান সংঘাত আরও কয়েক সপ্তাহ ধরে চলতে পারে। দুই দেশের এমন অনড় অবস্থানে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের যুদ্ধের শঙ্কা আরও তীব্র হয়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, গ্রিনিচ মান সময় রোববার রাত ১০টায় আন্তর্জাতিক বাজার খোলার পরপরই তেলের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা দেয়।
ডব্লিউটিআই (WTI): মার্কিন অপরিশোধিত তেল ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট-এর মে মাসের সরবরাহমূল্য ১.৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়।
ব্রেন্ট ক্রুড (Brent Crude): একই সময়ে নর্থ সি ব্রেন্ট ক্রুড তেলের মে মাসের সরবরাহমূল্য ব্যারেলপ্রতি ১১৩.৪৪ ডলারে গিয়ে ঠেকে। তবে লেনদেন শুরুর ৪৫ মিনিট পর তা কিছুটা কমে ১১১ ডলারের কাছাকাছি স্থিতিশীল হয়।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা শুরু হওয়ার আগের দিন ডব্লিউটিআই এবং ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ছিল যথাক্রমে মাত্র ৬৭.০২ এবং ৭২.৪৮ ডলার। অর্থাৎ যুদ্ধের প্রভাবে এক মাসেরও কম সময়ে তেলের দাম প্রায় ৪০ ডলারের বেশি বেড়েছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালি ঘিরে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন করে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে। পরিস্থিতি যদি আরও জটিল হয় এবং ট্রাম্পের আলটিমেটাম অনুযায়ী কোনো সামরিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তবে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments