Image description

জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির অজুহাতে বেড়েছে চালের দাম। পাশাপাশি নিত্যপণ্যের বাজারে এক সপ্তাহের ব্যবধানে, চিনি ও ডিমের দর কিছুটা বেড়েছে। এখনও সংকট আছে বোতলজাত ভোজ্যতেলের। তবে স্বাভাবিক রয়েছে সবজি, পেঁয়াজ ও কাঁচামরিচের বাজার।

বিক্রেতাদের দাবি, মাসখানেক ধরে ট্রাক ভাড়া বাড়তি। এ কারণে কিছু পণ্যের দর বেড়েছে। তবে ডিজেলের দাম বাড়ার কারণে নতুন করে পরিবহন ভাড়া নির্ধারিত হওয়ার পর সব পণ্যের দর বাড়তেছে গতকাল শুক্রবার থেকে।

ঢাকার আগারগাঁও, কারওয়ান বাজার, হাতিরপুল, আল্লাকরিম মার্কেট, বনানী কাঁচাবাজার, মালিবাগ বাজার, ও তেজকুনিপাড়া এলাকা ঘুরে ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা  বলে এসব তথ্য জানা গেছে। সম্প্রতি সরকার ডিজেলের লিটারে ১৫ টাকা বাড়িয়েছে। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আনুষ্ঠানিকভাবে না বাড়ালেও পণ্যবাহী ট্রাকগুলো ইতোমধ্যে ভাড়া দুই থেকে তিন হাজার টাকা বাড়িয়েছে।

যার প্রভাব পড়েছে পণ্যের বাজারে। এক সপ্তাহে মাঝারি চালের (বিআর-২৮ ও পাইজাম) কেজিতে দুই থেকে তিন টাকা বেড়েছে। এ মানের চালের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা দরে। সপ্তাহখানেক আগে ছিল ৫৩ থেকে ৬০ টাকা। তবে মোটা চাল (স্বর্ণা ও চায়না ইরি) ও সরু চালের (মিনিকেট) দাম অপরিবর্তিত আছে। মোটা চালের কেজি ৫০ থেকে ৫৩ এবং মানভেদে সরু চাল ৭৩ থেকে ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। যদিও সরকারি সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য বলছে, এক মাসের ব্যবধানে মোটা ও মাঝারি চালের দর ৪ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

তবে দামের বড় লাফ দেখা গেছে পোলাওর চালে। ১০-১৫ দিনের ব্যবধানে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্যাকেটজাত পোলাওর চালের কেজিতে ১৫ টাকার মতো বেড়ে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়ে খোলা পোলাওর চাল বিক্রি হচ্ছে ১৪৫ থেকে ১৫৫ টাকায়। এক কেজি ওজনের ইলিশ কিনতে খরচ হবে ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা। এ ছাড়া তেলাপিয়ার কেজি ২২০ থেকে ২৫০ টাকা। কারওয়ান বাজারের মুক্তা রাইস এজেন্সির স্বত্বাধিকারী মো. জালাল বলেন, কয়েক দিন পর আমন ধান উঠবে। বাজারে নতুন চাল আসবে। বছরের এ সময় সাধারণত চালের দাম কম থাকার কথা। কিন্তু সেই হারে কমছে না। জ্বালানি তেলের সংকটের অজুহাতে ট্রাক মালিকরা মাসখানেক আগে ভাড়া ?দুই থেকে আড়াই হাজার টাকার মতো বাড়িয়েছেন। এ কারণে চালের দাম কমছে না। 

তবে পোলাওর চালের দাম বাড়াকে অস্বাভাবিক বলেছেন এই ব্যবসায়ী। তাঁর মতে, এক লাফে এ মানের চালের দর ৫ থেকে ১৫ টাকা বাড়াটা স্বাভাবিক ব্যাপার নয়। কিন্তু মিলাররা দাম বাড়ালে তাদেরও বাড়িয়ে বিক্রি করতে হয়। চিনির কেজিতেও দর বেড়েছে ৫ টাকা। প্রতি কেজি খোলা চিনি ১০০ থেকে ১০৫ এবং প্যাকেট চিনির কেজি ১১০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

তবে বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ সংকট দেখা গেছে। পেঁয়াজের কেজি কেনা যাচ্ছে ৩৫ থেকে ৪৫ টাকা দরে। গত সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে ডিমের দাম। প্রতি ডজনে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকা দরে। তবে মুরগির দর কমছে। খুচরা বিক্রেতারা ব্রয়লারের কেজি ১৭৫ থেকে ১৮০ এবং সোনালি জাতের মুরগি ৩৫০ থেকে ৩৭০ টাকা দরে বিক্রি করছেন।

সপ্তাহখানেক আগেও ব্রয়লার ১৯০ থেকে ২০০ এবং সোনালি মুরগি ৩৮০ থেকে ৪১০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। তেজকুনিপাড়ার মায়ের দোয়া স্টোরের স্বত্বাধিকারী হেলাল উদ্দিন বলেন, সাত-আট দিন ধরে একটু একটু করে বাড়ছে ডিমের দাম। বেশি গরম পড়লে মুরগি মারা যায়। তখন ডিম উৎপাদন কমে। কিন্তু চাহিদা তো কমে না। এ জন্য দাম বাড়ছে। 

সবজির বাজারে তেমন পরিবর্তন দেখা যায়নি। গত সপ্তাহের মতো বেশির ভাগ সবজি ৫০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে পটোল, চিচিঙা, ধুন্দল কিনতে কেজিতে খরচ হবে ৬০ থেকে ৮০ টাকা। তবে কাঁচামরিচের দর কিছুটা কম। প্রতি কেজি কেনা যাচ্ছে ৬০ থেকে ৯০ টাকা দরে।

কিছুটা বাড়তি দেখা গেছে মাছের বাজার। বিশেষ করে ইলিশের দাম চড়া। ৫০০ গ্রামের প্রতি কেজি ইলিশ বিক্রি করছেন ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা দরে। এক কেজি ওজনের ইলিশ কিনতে খরচ হবে ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা। এ ছাড়া তেলাপিয়ার কেজি ২২০ থেকে ২৫০, চাষের কই মাছ ২৫০ থেকে ২৮০ এবং পাঙাশ ২০০ থেকে ২৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে চাষের কই মাছের কেজিতে ২০ টাকার মতো বেড়েছে। এ ছাড়া আকার ও মানভেদে রুই-কাতলার কেজি কেনা যাবে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা দরে।