Image description

টানা কয়েক দফা বাড়ার পর বিশ্ববাজারে বড় ধরনের দরপতনের মুখে পড়েছে স্বর্ণ। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এই মূল্যবান ধাতুটির প্রতি আস্থা ও আগ্রহ কিছুটা কমেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার (১১ মে) বাংলাদেশ সময় দুপুর নাগাদ আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম প্রতি আউন্সে ১ দশমিক ২ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৬৫৭ দশমিক ৮৯ ডলারে নেমেছে। একই সঙ্গে ফিউচার মার্কেটেও স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে। সেখানে প্রতি আউন্স স্বর্ণ ৪ হাজার ৬৬৫ দশমিক ৭০ ডলারে লেনদেন হচ্ছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা সফল না হওয়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের (ক্রুড অয়েল) দাম নতুন করে বাড়ছে। তেলের বাজার অস্থিতিশীল হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণের ওপর থেকে নজর সরিয়ে নিচ্ছেন, যা দাম কমার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে, বিশ্ববাজারে দরপতন হলেও বাংলাদেশের বাজারে এখনো স্বর্ণের দাম রেকর্ড উচ্চতায় অবস্থান করছে। সবশেষ গত বৃহস্পতিবার (৭ মে) বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করেছিল।

বর্তমানে দেশে স্বর্ণ ও রুপার নির্ধারিত দর: বাজুসের বর্তমান তালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেট ২ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭২ টাকা, ১৮ ক্যারেট ২ লাখ ২১৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৬৩ হাজার ০৬৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
একই সঙ্গে রুপার দামও আকাশছোঁয়া অবস্থায় রয়েছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৫ হাজার ৭৭৪ টাকা, ২১ ক্যারেট ৫ হাজার ৫৪০ টাকা এবং ১৮ ক্যারেট ৪ হাজার ৭২৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

দেশের স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বিশ্ববাজারের এই দরপতন যদি কয়েকদিন স্থায়ী হয়, তবে বাজুস খুব শীঘ্রই স্থানীয় বাজারে দাম কমিয়ে নতুন সমন্বয় ঘোষণা করতে পারে।

মানবকণ্ঠ/আরআই