ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধাবস্থা এবং আসন্ন যুক্তরাষ্ট্র-চীন উচ্চপর্যায়ের বৈঠককে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা কমেছে। টানা তিন দিনের ঊর্ধ্বগতির পর বিনিয়োগকারীরা এখন মধ্যপ্রাচ্যের নাজুক পরিস্থিতি এবং বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিতব্য ডোনাল্ড ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের কূটনৈতিক বৈঠকের দিকে গভীর নজর রাখছেন।
বুধবার (১৩ মে) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৯ সেন্ট বা ০.২ শতাংশ কমে ১০৭ দশমিক ৫৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৩৯ সেন্ট বা ০.৪ শতাংশ কমে ১০১ দশমিক ৭৯ ডলারে নেমেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, গত ফেব্রুয়ারিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই জ্বালানি তেলের বাজার ১০০ ডলারের ওপরে অবস্থান করছে। যুদ্ধের জেরে তেহরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে যাতায়াত করে।
ফিলিপ নোভার জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক প্রিয়াঙ্কা সচদেভা বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিটি নতুন তথ্যের ওপর বিনিয়োগকারীরা অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে উঠেছেন। ফলে তেলের দামে বড় ধরনের ওঠানামা অব্যাহত থাকতে পারে। যদি সরবরাহ ব্যবস্থা সরাসরি হুমকির মুখে পড়ে, তবে দাম আবারও দ্রুত বাড়তে পারে।’
এদিকে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় চলতি বছর বৈশ্বিক তেলের সরবরাহ মোট চাহিদার তুলনায় কম হতে পারে। এছাড়া ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় গত এপ্রিল মাসে দেশটির উৎপাদন দৈনিক প্রায় ৪ লাখ ৬০ হাজার ব্যারেল কমে ৮৮ লাখে নেমে এসেছে।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার জানিয়েছেন, যুদ্ধ বন্ধে তিনি চীনের সহায়তার ওপর নির্ভর করতে চান না। তবে ইরান বর্তমানে চীনের অন্যতম প্রধান তেল সরবরাহকারী দেশ হওয়ায় বেইজিংয়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার বেইজিংয়ে ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যার ওপর নির্ভর করছে জ্বালানি বাজারের ভবিষ্যৎ গতিপথ।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইউরেশিয়া গ্রুপ এক বার্তায় জানিয়েছে, সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার সময়কাল দীর্ঘ হওয়ায় এবং ইতোমধ্যেই ১ বিলিয়নের বেশি ব্যারেল তেলের ঘাটতি তৈরি হওয়ায় চলতি বছরের বাকি সময়জুড়ে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮০ ডলারের ওপরেই থাকতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments