Image description

স্কুল ব্যাংকিংয়ে প্রতিনিয়ত বাড়ছে জনপ্রিয়তা। বাড়ছে আমানতের পরিমাণ। ৬৩ লাখ ব্যাংক হিসাবে আমানত ৩ হাজার কোটি টাকা। ২৮ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্কুল ব্যাংকিংয়ের আওতায় রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অ্যাকাউন্ট রয়েছে ৪৮ লাখের বেশি। যদিও সারাদেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে চার লাখের বেশি। গতবছর থেকে প্রতিটি ব্যাংক শাখাকে অন্তত একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে স্কুল ব্যাংকিংয়ের আওতায় আনার নির্দেশনা রয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের। 

খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, দেশে ব্যাংকসহ অনেক প্রতিষ্ঠান প্রতিবছর উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষার্থীকে বৃত্তি ও আর্থিক সহায়তা দিয়ে থাকে। বেশির ভাগ শিক্ষার্থী ব্যাংকিং মাধ্যমে বৃত্তির অর্থ পান। অন্যদিকে সমপ্রতি শিক্ষার্থীদের ব্যাংক হিসাব খোলার বয়সের সীমা বাড়ানো হয়েছে। এতে শিক্ষার্থী হিসাবের সংখ্যা বেড়েছে। এ ছাড়া দেশের ব্যাংকগুলোর সব শাখার অন্তত একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ব্যাংকিং সেবা দেওয়ার নীতিও শিক্ষার্থী ব্যাংক হিসাব বৃদ্ধির পেছনে ভূমিকা রেখেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে কাজ করা ৬১টি ব্যাংকের মধ্যে ৫৯টি ব্যাংকই বর্তমানে স্টুডেন্ট ব্যাংকিং (প্রথম স্কুল ব্যাংকিং নামে এই কার্যক্রম শুরু হয়) সেবা দিচ্ছে। সর্বশেষ জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিক শেষে শিক্ষার্থী ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬২ লাখ ৭৩ হাজার। এসব হিসাবে শিক্ষার্থীদের জমানো মোট আমানতের পরিমাণ ২ হাজার ৯১০ কোটি টাকা। এক বছর আগে অর্থাত্ ২০২৫ সালের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে সব ব্যাংক মিলিয়ে ৪৪ লাখ ৮০ হাজার শিক্ষার্থী ব্যাংক হিসাব ছিল। সেই হিসাবে এক বছরে শিক্ষার্থীর ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা ৪০ শতাংশ বেড়েছে। একইভাবে আমানতের পরিমাণও গত বছরের একই প্রান্তিকের তুলনায় ৪০ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

শিক্ষার্থীদের ব্যাংক হিসাবের ৬১ শতাংশ খোলা হয়েছে শীর্ষ ৫টি ব্যাংকের মাধ্যমে। এর মধ্যে হিসাব খোলা ও আমানত সংগ্রহ উভয় ক্ষেত্রে এককভাবে শীর্ষস্থানে রয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ। ব্যাংকটিতে শিক্ষার্থীদের মোট হিসাবের সংখ্যা প্রায় ১৪ লাখ ৯৮ হাজার। ব্যাংকটিতে শিক্ষার্থীদের জমানো টাকার পরিমাণ প্রায় ৫৭৮ কোটি।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে শহর এলাকা ও ছেলেদের অংশগ্রহণ বেশি। মোট হিসাবের প্রায় ৫৬ শতাংশ শহরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এবং ৪৪ শতাংশ গ্রাম এলাকায় খোলা হয়েছে।
 
অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের মোট ব্যাংক হিসাবের মধ্যে ৫৩ শতাংশ ছেলেদের; বাকি প্রায় ৪৭ শতাংশ হিসাব মেয়ে শিক্ষার্থীদের। আমানত জমার ক্ষেত্রেও ছেলেরা এগিয়ে। ছেলে শিক্ষার্থীদের ব্যাংক হিসাবে রয়েছে মোট আমানতের ৫৭ শতাংশ। বাকি ৪৩ শতাংশ আমানত নারী শিক্ষার্থীদের।

চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংক স্কুল ব্যাংকিংয়ের নতুন নির্দেশনা জারি করে। এতে শিক্ষার্থী ব্যাংক হিসাব খোলার বয়সসীমা বাড়িয়ে ২৫ বছর করা হয়। নতুন এই নির্দেশনা জারির ফলে প্রথম প্রান্তিকেই ১৩ লাখ ৪২ হাজার শিক্ষার্থী নতুন করে ব্যাংক হিসাবে যুক্ত হয়েছে। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, শিক্ষার্থীদের ব্যাংকিংয়ের আওতায় নিতে আসতে বাংলাদেশ ব্যাংকের এই উদ্যোগ বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বর্তমানে ক্যাশলেস লেনদেন বাড়াতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আর্থিক শিক্ষার সমপ্রসারণের বিকল্প নেই। এ লক্ষ্য নিয়েই প্রতিটি ব্যাংক শাখা থেকে একটি করে স্কুল নির্বাচন করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকও নানা উদ্যোগ নিয়েছে। প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিলসহ সব শাখা অফিসের মাধ্যমে পরিচালিত স্কুলগুলোর বেতন-ভাতাসহ সব লেনদেন ডিজিটাল করা হচ্ছে। পরবর্তী ধাপে বাংলাদেশ ব্যাংকের শাখার আশপাশের বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের লেনদেন ডিজিটাল করা হবে।
২০১০ সালের আগ পর্যন্ত শুধু ১৮ বছরের বেশি বয়সীরা (বর্তমানে বয়স সীমা বৃদ্ধি করে ২৫ বছর করা হয়েছে) ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে পারতেন। টেকসই আর্থিক অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্যে তখন স্কুল শিক্ষার্থীদের অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ চালু হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আইডি কার্ড নিয়ে একজন শিক্ষার্থী মাত্র একশ টাকা জমার বিপরীতে যে কোনো ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন। দেশের প্রচলিত আইনে ২৫ কম বয়সীরা অপ্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে বিবেচিত। যে কারণে এক্ষেত্রে অভিভাবকের সম্মতি নিতে হয়। মূলত ছোটবেলা থেকেই আর্থিক বিষয়ে ধারণা এবং সঞ্চয়প্রবণতা গড়ে তোলার জন্য এ উদ্যোগ নেওয়া হয়। তাদের উত্সাহিত করতে শিক্ষার্থীদের জমার ওপর সর্বোচ্চ সুদ দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের।

মূলত অল্প বয়স থেকেই সঞ্চয়ের অভ্যাস ও আর্থিক সচেতনতা গড়ে তুলতে শিক্ষার্থী ব্যাংক হিসাব চালুর উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংক কর্মকর্তারা জানান, শিক্ষার্থী ব্যাংক হিসাব পরিচালনা অত্যন্ত সাশ্রয়ী। কোনো প্রকার সার্ভিস চার্জ বা মাশুল ছাড়াই মাত্র ১০০ টাকা জমা দিয়ে এই হিসাব খোলা যায়। বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারিত লেনদেনের সীমা সাপেক্ষে এতে ডেবিট কার্ড এবং এসএমএস, ইন্টারনেট ও মোবাইল ব্যাংকিং সুবিধা দেওয়া হয়।