Image description

অস্তিত্বহীন নামসর্বস্ব থিয়েটারের নামে অনুদান দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও চলচ্চিত্র নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর বিরুদ্ধে। একটি বেসরকারি টেলিভিশনের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪-২৫ সালের বরাদ্দের নথির তথ্য মতে, সংস্কৃতি মঞ্জুরি খাত হতে চারু শিল্প ও থিয়েটারের জন্য ফারুকী সারা দেশের তিন শতাধিক প্রতিষ্ঠানকে ২ কোটি ২২ লাখ ৪৩ হাজার টাকা অনুদান দেন। এর মধ্যে ১৭টি প্রতিষ্ঠান রাজধানীতে।

প্রতিবেদনে সেই ১৭ প্রতিষ্ঠানের ৭টি প্রতিষ্ঠানের সত্যতা যাচাই করতে যায় গণমাধ্যমটি। মিরপুরের বড়বাগ এলাকা নথি অনুযায়ী ৬ বা ১২তে শিখা নাট্যগোষ্ঠীর নামে অনুদান দেওয়া হলেও স্থানীয়রা জানান, এই ঠিকানার কোনো হোল্ডিং নম্বরই নেই।

একই অবস্থা স্বর্ণধিতি নামের মিরপুরের সেনপাড়ায় অবস্থিত আরেকটি প্রতিষ্ঠানের। কিন্তু ভবন মালিক বলেন, এরকম কোনো প্রতিষ্ঠান আমাদের বিল্ডিংয়ে নেই।

পাশেই রূপনগরে একটি স্কুলের ঠিকানায় সঞ্চুরি সাংস্কৃতিক শিক্ষালয়কে দেওয়া হয় অনুদান। কিন্তু স্কুলটির শিক্ষকরা জানান, এই প্রতিষ্ঠান নিজেদের কার্যক্রম গুটিয়েছে আরো দুই বছর আগেই।

শাহবাগের শেখ কামাল টেনিস কমপ্লেক্সে সড়কল্পন নামের প্রতিষ্ঠানটি থাকলেও বছরব্যাপী তালা ঝুলছে গেটে।

পাশেই গুলিস্থানের বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে ২৬ নম্বর হোল্ডিং এ নেই বাংলাদেশ সংস্কৃতি পরিষদের অস্তিত্ব। একই অবস্থা বনশ্রী ৩৩৪ নম্বর বাড়ির ঠিকানায় সুরতাল শিল্পগোষ্ঠীর। ভবন মালিক বলেন, ‘আমার বাড়িতে তো এরকম কেউই ছিল না।’

পুরান ঢাকার ওয়ারির বনগ্রাম লেনের ২৭ নম্বর বাড়িতে কখনোই ছিল না বাংলাদেশ লোক সংস্কৃতি কেন্দ্র। ভবন মালিকের দাবি, ‘আমার জানামতে আমি দেখি নাই। এমন কোনো সাইনবোর্ডও পাইনি।’

বরাদ্দের নামে এমন অনিয়ম নিয়ে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা ফারুকীসহ কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও সাড়া মেলেনি বলে উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে।

নিয়মিত নাট্যচর্চা করা সক্রিয় দলগুলো যেখানে সরকারি অনুদান না পেয়ে হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানগুলো কিভাবে সরকারি বরাদ্দ পাচ্ছে এমন প্রশ্ন সাংস্কৃতিক কর্মীদের।

সূত্র: দেশ টিভি