হিজাব ছাড়া দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করায় ইরানের তরুণ সংগীতশিল্পী পারাস্তু আহমাদিকে কঠোর শাস্তি দিয়েছে দেশটির আদালত। আদালতের রায়ে তাকে এবং তার সংগীতদলের আট সদস্যকে ৭৪টি করে দোররা মারার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দুই বছরের জন্য বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ এবং বিদেশ ভ্রমণের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
ঘটনাটি ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের। সে সময় পারাস্তু আহমাদি ইউটিউব লাইভে ‘আজ খুনে জাভানানে ওয়াতান’ শিরোনামের একটি দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠানে তিনি হিজাব ছাড়াই উপস্থিত হয়েছিলেন। গানটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
তবে ইরানি কর্তৃপক্ষ ওই পরিবেশনাকে ‘অশ্লীল ও অনৈতিক’ হিসেবে আখ্যা দেয়। গান প্রকাশের কিছুদিন পর পারাস্তু আহমাদি ও তার কয়েকজন সহশিল্পীকে আটক করা হয়। পরে তারা মুক্তি পেলেও তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। সেই মামলার রায়েই এই শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রায় ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। মানবাধিকারকর্মী ও সংস্কৃতিকর্মীরা বলছেন, এটি কেবল একটি আইনি সিদ্ধান্ত নয়; বরং সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা ও ভিন্নমত দমনের একটি উদাহরণ। তাদের মতে, ইরানে দীর্ঘদিন ধরেই স্বাধীনচেতা শিল্পী ও সরকার-সমালোচকদের বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়ে থাকে।
এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন ইরানি-ব্রিটিশ অভিনেত্রী নাজানিন বোনিয়াদি, নির্বাসিত ইরানি অভিনেত্রী সেতারেহ মালেকিসহ অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি। তারা রায়টিকে শিল্পীসত্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আঘাত হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
ইরানি অধিকারকর্মীদের আইনি সহায়তাদানকারী সংস্থা ‘দাদবান’-এর মানবাধিকার আইনজীবী মইন খাজায়েলি বলেছেন, এ রায়ের কোনো সুস্পষ্ট আইনি ভিত্তি নেই। তার মতে, ইরানের প্রচলিত আইনে নারীদের গান গাওয়া বা সংগীত পরিবেশন করাকে অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে এসব কর্মকাণ্ডকে ‘অশ্লীল কনটেন্ট’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া আইনের অপব্যবহারের শামিল।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ‘সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস ইন ইরান’-এর অ্যাডভোকেসি পরিচালক বাহার ঘান্দেহারি বলেছেন, শুধু গান গাওয়া এবং হিজাব ছাড়া উপস্থিত হওয়ার কারণে একজন শিল্পীকে ৭৪ দোররা মারার সাজা দেওয়া অত্যন্ত কঠোর ও উদ্বেগজনক। তার মতে, এই ঘটনা ইরানে মানবাধিকার পরিস্থিতির বর্তমান বাস্তবতাকেই সামনে নিয়ে এসেছে।




Comments