Image description

ঢাকার ধামরাইয়ের কুল্লা ইউনিয়নের রূপনগর এলাকা এখন আক্ষরিক অর্থেই ‘রূপের নগরী’। মাঠজুড়ে বিস্তৃত সরিষা ক্ষেতের মোহনীয় সৌন্দর্য প্রকৃতিকে দিয়েছে এক অনন্য রূপ। শীতের বিদায় আর বসন্তের আগমনী বার্তা নিয়ে ফুটে ওঠা এই ‘হলুদের রাজ্য’ দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন হাজারো দর্শনার্থী। তবে পর্যটকদের এই আনন্দের আড়ালে লুকিয়ে আছে কৃষকের ফসলের বড় ধরনের ক্ষতির শঙ্কা।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার কুল্লা ইউনিয়নের দক্ষিণ প্রান্তে রূপনগর এলাকায় শত শত একর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। দিগন্তজোড়া হলুদ ফুলের সমারোহ আর গ্রামের নির্মল বাতাস উপভোগ করতে ধামরাই ছাড়াও সাভার, মানিকগঞ্জের সিংগাইরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আসছেন দর্শনার্থীরা। স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, নবদম্পতি ও পরিবার-পরিজন নিয়ে আসা মানুষের পদচারণায় মুখর পুরো এলাকা।

এই জনস্রোতকে কেন্দ্র করে সেখানে অস্থায়ীভাবে গড়ে উঠেছে ‘রূপের নগরী বিনোদন কেন্দ্র’। রাস্তার দুই পাশে চটপটি-ফুচকার দোকান, ফুল ও শিশুদের খেলনা বিক্রির ধুম পড়েছে। স্থানীয় ফটোগ্রাফাররাও ব্যস্ত সময় পার করছেন দর্শনার্থীদের ছবি তুলে। 

ফটোগ্রাফার শহিদুল ইসলাম জানান, ছুটির দিনে ছবি তুলে তার ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা আয় হয়। ফুল বিক্রেতা মোশাররফ হোসেনও জানালেন তার ভালো বেচাবিক্রির কথা।

তবে এই উৎসবমুখর পরিবেশের অন্ধকার দিকটি হলো ফসলের ক্ষয়ক্ষতি। অভিযোগ রয়েছে, অনেক দর্শনার্থী ছবি তোলা বা টিকটক ভিডিও বানানোর নেশায় সরিষা ক্ষেতের অনেক ভেতরে ঢুকে পড়ছেন। এতে পায়ের তলায় পিষ্ট হয়ে নষ্ট হচ্ছে সরিষা গাছ। অনেককে শখের বসে ফুল ছিঁড়তেও দেখা গেছে।

সরিষা ক্ষেতের মালিক জুয়েল ও বাদশা মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, "মানুষ সৌন্দর্য দেখতে আসে, এটা ভালো কথা। কিন্তু তারা জমির ভেতরে ঢুকে ফসল মাড়িয়ে দেয়। গাছ ভেঙে মাটিতে পড়ে গেলে সরিষা নষ্ট হয়ে যায়। তাই লাঠি নিয়ে আমাদের পাহারা দিতে হয়। অনেক সময় বকাঝকা করে তাদের তাড়াতে হয়।" 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফসল নষ্ট করার জেরে সম্প্রতি এক দর্শনার্থীকে মারধরের ঘটনাও ঘটেছে, যা এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া এক দর্শনার্থী বলেন, "প্রচুর মানুষ আসার কারণে ফসলের ক্ষতি হচ্ছে এটা সত্য। দর্শনার্থীদের উচিত ফসলের ক্ষতি না করে আনন্দ উপভোগ করা।" 

অপর এক দর্শনার্থী আনিসুজ্জামান বলেন, "রূপনগর এলাকাটি পর্যটনের জন্য সম্ভাবনাময়, কিন্তু এখানে কোনো ব্যবস্থাপনা নেই। নির্দিষ্ট পথ নির্ধারণ ও সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড থাকলে কৃষক ও পর্যটক কারোরই সমস্যা হতো না।"

সচেতন মহলের মতে, প্রশাসনের সঠিক তদারকি ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই কৃষকের ফসল রক্ষা এবং পর্যটনের এই সম্ভাবনাকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব। অন্যথায় লোকসানের মুখে কৃষকরা ফসল উৎপাদনে বিমুখ হতে পারেন।

মানবকণ্ঠ/ডিআর