Image description

গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন ও দীর্ঘমেয়াদি অবরোধের ফলে ভেঙে পড়েছে পুরো চিকিৎসাব্যবস্থা। জীবনরক্ষাকারী ওষুধের তীব্র সংকট আর বিশেষায়িত হাসপাতাল ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় সেখানে ক্যানসার রোগীদের মৃত্যুহার যুদ্ধপূর্ব সময়ের তুলনায় তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে প্রায় ১১ হাজার ক্যানসার রোগী কোনো ধরনের চিকিৎসা ছাড়াই মৃত্যুর প্রহর গুনছেন।

গাজার একমাত্র বিশেষায়িত ক্যানসার হাসপাতাল ‘টার্কিশ-প্যালেস্টাইনিয়ান ফ্রেন্ডশিপ হসপিটাল’ ইসরায়েলি হামলায় ধ্বংস হয়ে গেছে। ফলে রোগ নির্ণয় বা থেরাপির কোনো সুযোগই আর অবশিষ্ট নেই। গাজা ক্যানসার সেন্টারের মেডিকেল ডিরেক্টর মোহাম্মদ আবু নাদা জানিয়েছেন, ক্যানসার চিকিৎসা এখন ৫০ বছর আগের অবস্থায় ফিরে গেছে। বর্তমানে নাসের মেডিকেল কমপ্লেক্সে কিছু কার্যক্রম চললেও সেখানে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বা ওষুধের চরম অভাব।

চিকিৎসকরা অভিযোগ করেছেন, ইসরায়েল স্রেফ প্রচারণার স্বার্থে গাজায় চকোলেট, চিপস বা বাদামের মতো বাণিজ্যিক পণ্য প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছে, অথচ ক্যানসার বা দীর্ঘমেয়াদি রোগের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ জরুরি ওষুধ প্রবেশ করতে দিচ্ছে না। কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপির মতো জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা না থাকায় গাজায় এখন ক্যানসার শনাক্ত হওয়া মানেই অবধারিত মৃত্যু।

হানি নাঈম নামের এক মুমূর্ষু রোগী জানান, আগে তিনি পশ্চিম তীরে গিয়ে চিকিৎসা নিতে পারতেন, কিন্তু এখন গাজায় আটকা পড়ে ধুঁকছেন। বর্তমানে ৩ হাজার ২৫০ জন রোগীর বিদেশে চিকিৎসার ছাড়পত্র থাকলেও রাফাহ সীমান্ত বন্ধ থাকায় এবং ইসরায়েলি নিষেধাজ্ঞার কারণে তারা যেতে পারছেন না। শুধু খান ইউনিস এলাকাতেই প্রতিদিন গড়ে ২ থেকে ৩ জন ক্যানসার রোগী প্রাণ হারাচ্ছেন।

ব্যথানাশক ওষুধের অভাবে শেষ সময়ে রোগীদের অসহনীয় যন্ত্রণার সাক্ষী হওয়া ছাড়া চিকিৎসকদের আর কিছুই করার থাকছে না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বারবার আকুতি জানানো হলেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি।

সূত্র: আল জাজিরা

মানবকণ্ঠ/আরআই