Image description

যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের ভূখণ্ডে কোনো ধরনের হামলা চালায়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করবে তেহরান। 

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ হুঁশিয়ারি দেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। সাক্ষাৎকারের চুম্বক অংশ তার সরকারি টেলিগ্রাম চ্যানেলেও প্রকাশ করা হয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র যদি আমাদের ওপর হামলা চালায়, তবে আমরা আমেরিকার মূল ভূখণ্ডে হামলা করব না। কিন্তু এই অঞ্চলে তাদের যত সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, সেগুলোকে আমরা সরাসরি আঘাত হানব।”

ইরানের পক্ষ থেকে এমন কড়া হুঁশিয়ারি আসলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কণ্ঠে শোনা গেছে ভিন্ন সুর। ওমানে দুই দেশের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনার পর ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো রিসোর্টে যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, “ইরান নিয়ে আমাদের খুব ভালো আলোচনা হয়েছে। মনে হচ্ছে ইরান একটি চুক্তি করতে চায়। আগামী সপ্তাহের শুরুতেই আমরা আবারও আলোচনায় বসতে যাচ্ছি।”

তবে আলোচনার আবহের মধ্যেও গত বছর ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় চালানো যুক্তরাষ্ট্রের ‘মিডনাইট হ্যামার’ অভিযানের কথা স্মরণ করিয়ে দেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, “আমার মনে হয় না তারা আবারও তেমন কিছুর মুখোমুখি হতে চাইবে।”

ওমানে অনুষ্ঠিত আলোচনাকে ইতিবাচক হিসেবে বর্ণনা করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও। তিনি জানান, আলোচনার এই ধারা অব্যাহত থাকলে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি কার্যকর ও ইতিবাচক কাঠামোতে পৌঁছানো সম্ভব হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে সামরিক হুঁশিয়ারি এবং অন্যদিকে আলোচনার টেবিলে ইতিবাচক অগ্রগতি—এই দুই বিপরীতমুখী অবস্থানের মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কোনো ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হচ্ছে কি না, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর