Image description

মুসলিম বিশ্বে ‘আমি ইসরায়েলকে ভালোবাসি’—এমন কথা শোনা বিরল হলেও সোমালিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া অঞ্চল ‘সোমালিল্যান্ডে’ এটি এখন সাধারণ একটি বাক্য। বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে গত বছরের ডিসেম্বরে সোমালিল্যান্ডের স্বাধীনতার স্বীকৃতি দিয়েছে ইসরায়েল। ১৯৯১ সাল থেকে সোমালিয়া থেকে আলাদা হয়ে স্বায়ত্তশাসন দাবি করা এই অঞ্চলের মানুষের কাছে ইসরায়েল এখন সবচেয়ে বড় বন্ধু।

চলতি সপ্তাহে পবিত্র রমজান মাস শুরু হলেও সোমালিল্যান্ডের আবালবৃদ্ধবণিতা সবাইকে ইসরায়েলের প্রশংসা করতে দেখা যাচ্ছে। যেখানে পুরো মুসলিম বিশ্ব ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদে মুখর, সেখানে সোমালিল্যান্ডের নাগরিকরা ভিন্ন মেরুতে। তাদের মতে, ১৯৮০-র দশকে সোমালিয়ার বাহিনীর হাতে তারা যে নৃশংসতার শিকার হয়েছিল, কোনো মুসলিম দেশ তার প্রতিবাদ করেনি।

রাজধানী হারগেইসার কেন্দ্রীয় চত্বরে এখনো একটি সোভিয়েত মিগ যুদ্ধবিমান স্মৃতিস্তম্ভ হিসেবে রাখা আছে। ১৯৮৮-৮৯ সালে সোমালিয়ার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সিয়াদ বারের নির্দেশে এই বিমানগুলো দিয়ে শহরটির ৭০ শতাংশ ধ্বংস করা হয়েছিল। ২০ বছর বয়সী ছাত্র আহমেদ আবিব ইব্রাহিম বলেন, "আমরা ৩৫ বছর ধরে স্বীকৃতির অপেক্ষা করেছি। আমাদের পূর্বপুরুষদের লড়াইয়ের ফসল এই স্বীকৃতি।"

ট্রাক চালক আবদিলরশিদ আদম জামাক জানান, তিনি তার ঘরে ইসরায়েলি পতাকা টাঙিয়েছেন। তিনি বলেন, "আমি এই রমজানে ইসরায়েলের কথা ভাবছি। ইহুদিরা আমার বন্ধু। মুসলিমরা কি আমাদের সাহায্য করেছে? না!" এমনকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেক নারীকে ইসরায়েলি পতাকাকে হিজাব হিসেবে ব্যবহার করতেও দেখা গেছে।

তবে এই স্বীকৃতির তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন সোমালিয়ার প্রেসিডেন্ট হাসান শেখ মাহমুদ। একে সোমালিয়ার সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি। 

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানও এর বিরোধিতা করে বলেছেন, এটি হর্ন অব আফ্রিকায় কোনো সুফল বয়ে আনবে না।

বিশ্লেষকদের মতে, সংযুক্ত আরব আমিরাত সোমালিল্যান্ডের বারবেরা বন্দরে বড় বিনিয়োগ করায় এর পেছনে তাদের একটি বড় ভূমিকা থাকতে পারে। সোমালিল্যান্ডের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, "ফিলিস্তিনিদের জন্য আমাদের সমবেদনা আছে, কিন্তু আমাদের ভাইয়েরাই (সোমালিয়া) আমাদের হত্যা করতে চায়। তাই আমাদের নিজস্ব অস্তিত্বের কথা আগে ভাবতে হচ্ছে।"

মানবকণ্ঠ/ডিআর