ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় বন্দরনগরী হাইফায় ইরানের শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুই জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ১১ জন। রোববার গভীররাতে হাইফার কেন্দ্রস্থল লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়।
সোমবার ভোরে উদ্ধারকারী দলগুলো জানিয়েছে, হাইফায় একটি ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই এলাকায় নতুন করে চালানো গোলাবর্ষণে চারজন সামান্য আহত হয়েছেন এবং আরও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ সার্ভিস হাইফা শাখার বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে যে, হোম ফ্রন্ট কমান্ডের সঙ্গে কয়েক ঘণ্টার প্রচেষ্টার পর বাহিনী ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া নিহত দুই ব্যক্তিকে উদ্ধার করেছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে “আটকে পড়া বা নিখোঁজ আরও দুই ব্যক্তির কাছে পৌঁছানোর প্রচেষ্টায় এই মুহূর্তে উদ্ধার অভিযান ও প্রচেষ্টা এখনও অব্যাহত রয়েছে”।
রোববার গভীর রাতে উদ্ধারকর্মীরা জানান, হামলার পর প্রাথমিকভাবে একজন শিশু ও দুইজন বয়স্ক ব্যক্তিসহ চারজন নিখোঁজ হয়েছেন এবং ভবনটি ধসে পড়ার ‘মারাত্মক’ ঝুঁকিতে রয়েছে।
মৃত বা নিখোঁজদের কারও নাম প্রকাশ্যে জানানো হয়নি।
সেনাবাহিনী ও পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রটির ওয়ারহেড—যাতে আনুমানিক কয়েকশ কিলোগ্রাম বিস্ফোরক পদার্থ ছিল—আঘাতের ফলে বিস্ফোরিত হয়নি।
সংঘর্ষের ফলে সৃষ্ট গতিশক্তির কারণে আবাসিক ভবনটির কয়েকটি তলা ধসে পড়ে; তবে, আশেপাশের বাড়িঘরের বড় কোনো ক্ষতি হয়নি।
উদ্ধারকারী বাহিনীর মতে, ওয়ারহেডটি বিস্ফোরিত হলে বিস্ফোরণের ফলে সম্ভবত পুরো ভবনটি ধ্বংস হয়ে যেত এবং আশেপাশের বাড়িঘরও ক্ষতিগ্রস্ত হতো।
ঘটনাস্থলে ইসরায়েলি পুলিশ কমিশনার ড্যানি লেভি সাংবাদিকদের বলেন যে, ধ্বংসস্তূপের নিচে থাকা ওয়ারহেডটি বিস্ফোরিত হওয়ার সম্ভাবনা কম।
তিনি বলেন, “আমরা বেশ কয়েকটি ভবন খালি করেছি, যাতে ক্ষেপণাস্ত্রটি বিস্ফোরিত হওয়ার মতো অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটলেও কেউ আহত না হয়। আমাদের স্যাপাররা বিষয়টি সামলাচ্ছেন।”
হাইফার বাসিন্দা ভেরেড ওহানা ওয়াইনেট নিউজ সাইটকে বলেন, “এটা ছিল একটা প্রচণ্ড বিস্ফোরণ, এক ভয়ংকর বিস্ফোরণ। এটা স্পষ্ট ছিল যে সরাসরি আঘাত হেনেছে।”
উদ্ধারকারী দলের মতে, অধিকাংশ বাসিন্দা ভবনটির বোমা আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছিলেন এবং অক্ষত ছিলেন।
ধারণা করা হচ্ছে, সংঘর্ষের সময় নিখোঁজ ও নিহতরা কোনো বোমা-নিরাপদ কক্ষে ছিলেন না।
ইসরায়েলি বিমান বাহিনী জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি ভূপাতিত করতে ব্যর্থতার বিষয়টি তারা তদন্ত করছে। সামরিক বাহিনীর মতে, ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রতিহত করার জন্য বেশ কয়েকবার চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেটিকে ভূপাতিত করতে ব্যর্থ হয়।
২৮ ফেব্রুয়ারি চলমান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান থেকে ইসরায়েলের লক্ষ্য করে ৫০০টিরও বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে, শত শত কিলোগ্রাম বিস্ফোরকসহ প্রচলিত ওয়ারহেড বহনকারী অন্তত ১৪টি ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের জনবহুল এলাকায় আঘাত হেনেছে, যার ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এছাড়াও, ক্লাস্টার বোমা ওয়ারহেড বহনকারী ক্ষেপণাস্ত্রের জনবহুল এলাকায় আঘাত হানার ৩০টিরও বেশি ঘটনা ঘটেছে, যেখানে ২০০টিরও বেশি পৃথক আঘাতস্থল চিহ্নিত হয়েছে।
২৮শে ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলে ১৮ জন ইসরায়েলি বেসামরিক নাগরিক ও বিদেশী নাগরিক এবং পশ্চিম তীরে চারজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।




Comments