Image description

ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি হলেও মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি কমাচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তেহরানের গতিবিধির ওপর নজরদারি বজায় রাখতে যুদ্ধজাহাজ, অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ও সেনাসদস্যদের ইরানের আশপাশেই মোতায়েন রাখা হবে।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন যে, চুক্তির প্রতিটি শর্ত পুরোপুরি বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত মার্কিন বাহিনী অবস্থান ত্যাগ করবে না। তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি ইরান কোনোভাবে শর্ত ভঙ্গ করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র আবারও বড় ধরনের সামরিক অভিযানে নামবে। মূলত একটি ‘প্রকৃত ও দীর্ঘমেয়াদী’ সমাধান না আসা পর্যন্ত সামরিক চাপ বজায় রাখাই ট্রাম্প প্রশাসনের লক্ষ্য।

শান্তি আলোচনার আবহ তৈরি হলেও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বড় ধরনের বিরোধ রয়ে গেছে। ট্রাম্পের দাবি, ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধে রাজি হয়েছে। তবে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ এই দাবি অস্বীকার করে বলেছেন, যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী ইরান তার এই কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার অধিকার রাখে।

ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, নতুন এই সমঝোতার অংশ হিসেবে ইরান কখনও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। এছাড়া বিশ্ববাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি সবসময় উন্মুক্ত ও নিরাপদ রাখার গ্যারান্টি দিতে হবে তেহরানকে।

অন্যদিকে, ইরান বর্তমানে লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকার বিষয়টি সামনে এনেছে। তেহরানের মতে, লেবাননে ইসরায়েলি আগ্রাসন চললে স্থায়ী শান্তিচুক্তি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়াটা অযৌক্তিক। রয়টার্সের সূত্রমতে, দুই পক্ষের অবস্থানে এমন বিপরীতমুখী অবস্থানের কারণে যুদ্ধবিরতি চললেও মধ্যপ্রাচ্যে এক ধরনের অনিশ্চয়তা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

সূত্র: রয়টার্স

মানবকণ্ঠ/আরআই