সালথায় মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় সাবেক সেনা সদস্যের ওপর হামলা
ফরিদপুরের সালথায় মাদক ব্যবসা ও সেবনে বাধা দেওয়ায় মো. শহিদুল সোহেল (৪৮) নামে সাবেক এক সেনা সদস্যের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে মাদককারবারীরা। বুধবার (৮ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮টার দিকে সালথা বাজারের জননী সুপার মার্কেটের দোতলায় ‘সালথা ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে’ এই হামলার ঘটনা ঘটে। আহত শহিদুল সোহেল বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শহিদুল সোহেল উপজেলা সদরের সালথা পাড়ার দাউদ শিকদারের ছেলে এবং ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক।
অভিযুক্ত হামলাকারীরা হলেন—উপজেলা সদরের ভাওয়াল গ্রামের আলী বিশ্বাসের ছেলে নুরু বিশ্বাস (৩৫), শামীম বিশ্বাস (২৪) ও জামাল মাতুব্বরের ছেলে সোহেল (২৩)। অভিযুক্তদের মধ্যে নুরু ও শামীম উপজেলা শ্রমিকদলের সভাপতি কালাম বিশ্বাসের আপন ছোট ভাই বলে জানা গেছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সালথা জননী সুপার মার্কেটের নিচ তলায় নুরু বিশ্বাস ও তার সহযোগীরা নিয়মিত ইয়াবা কেনাবেচা ও গাঁজা সেবন করে আসছিলেন। বুধবার সন্ধ্যায় মার্কেটের ভেতর তাদের মাদক সেবনে বাধা দেন ক্লিনিক ব্যবসায়ী শহিদুল সোহেল। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নুরু বিশ্বাস ও তার সহযোগীরা লাঠিসোটা ও পাইপ নিয়ে ক্লিনিকের ভেতর ঢুকে শহিদুলের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, অভিযুক্ত তিন যুবক শহিদুল সোহেলকে লাঠি দিয়ে উপর্যুপরি পেটাচ্ছে।
আহত শহিদুল সোহেল বলেন, “মার্কেটের নিচ তলায় মাদক সেবন নিয়ে নুরুর সঙ্গে সন্ধ্যায় আমার কথাকাটাকাটি হয়েছিল। স্থানীয় মুরব্বিরা বিষয়টি মিমাংসাও করে দেন। কিন্তু রাত সাড়ে ৮টার দিকে তারা দলবল নিয়ে আমার ক্লিনিকে ঢুকে আমাকে মারধর করে। আমি এই সন্ত্রাসী হামলার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
এ বিষয়ে ফরিদপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা-সালথা সার্কেল) মো. মাহমুদুল হাসান জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। হামলাকারীরা দ্রুত পালিয়ে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে তাদের আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং তাদের ধরতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। এ ঘটনায় জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments