Image description

ভারত ও চীন থেকে মানুষ কেবল নাগরিকত্ব লাভের আশায় যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দিতে আসে—মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন বিতর্কিত মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছে ভারত। ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে ‘অযৌক্তিক, তথ্যহীন ও রুচিহীন’ বলে আখ্যায়িত করেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, "ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই মন্তব্যটি স্পষ্টতই তথ্যভিত্তিক নয়, এটি অত্যন্ত অনুপযুক্ত এবং রুচিহীন। এই বক্তব্য ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে না, যা দীর্ঘদিন ধরে পারস্পরিক সম্মান ও অভিন্ন স্বার্থের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।"

সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ মার্কিন রেডিও উপস্থাপক মাইকেল স্যাভেজের একটি বিতর্কিত পোস্ট শেয়ার করেন। সেখানে স্যাভেজ আমেরিকায় জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব দেওয়ার নীতির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করেন, ভারত ও চীনের মতো ‘পৃথিবীর নরক’ (Hellhole) থেকে মানুষ এসে যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেয় যাতে তারা নাগরিকত্ব পায় এবং পরে ‘চেইন মাইগ্রেশন’-এর মাধ্যমে তাদের পুরো পরিবারকে বিদেশ থেকে নিয়ে আসতে পারে। ট্রাম্প এই বক্তব্য শেয়ার করার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় ওঠে।

ট্রাম্পের এমন বর্ণবাদী মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন মার্কিন কংগ্রেস সদস্য ও ভারতীয় বংশোদ্ভূত অ্যামি বেরা। তিনি এই মন্তব্যকে ‘অপমানজনক ও অজ্ঞতাপূর্ণ’ বলে অভিহিত করেছেন। এছাড়া প্রভাবশালী সংগঠন ‘হিন্দু আমেরিকান ফাউন্ডেশন’ এই বক্তব্যকে ‘ঘৃণামূলক ও বর্ণবাদী’ হিসেবে নিন্দা জানিয়েছে।

ট্রাম্পের এই বিতর্কিত মন্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের টানাপোড়েন কমাতে আগামী মাসে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর ভারত সফরের কথা রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতি, এইচ-১বি (H-1B) ভিসা সংক্রান্ত কড়াকড়ি এবং বাণিজ্যিক শুল্ক নিয়ে আগে থেকেই দুই দেশের মধ্যে কিছুটা দূরত্ব তৈরি হয়েছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই ধরনের মন্তব্য দীর্ঘদিনের কৌশলগত মিত্র ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে প্রযুক্তিখাতে কর্মরত বিপুল সংখ্যক ভারতীয় অভিবাসীর মধ্যে এটি গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।।’

সূত্র: এএফপি