রান ইস্যুতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন মার্কিন প্রশাসন কৌশলগতভাবে পরাজিত হচ্ছে এবং তেহরানের কাছে যুক্তরাষ্ট্র ‘অপমানিত’ হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ।
সম্প্রতি ইসলামাবাদে দুই দেশের মধ্যে অনুষ্ঠিত আলোচনা কোনো সুফল ছাড়াই ভেস্তে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে তিনি এই তীক্ষ্ণ সমালোচনা করেন।
চ্যান্সেলর মের্জের এই মূল্যায়ন যুক্তরাষ্ট্র ও তার ন্যাটো মিত্রদের মধ্যে বিদ্যমান ট্রান্সআটলান্টিক বিভেদকে আরও গভীর করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এটি মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সেই দাবির সরাসরি বিরোধিতা, যেখানে তিনি বলেছিলেন যে ইরান ইস্যুতে ‘সব ক্ষমতা’ ওয়াশিংটনের হাতে।
মার্সবার্গে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দেওয়া এক বক্তব্যে ফ্রিডরিখ মের্জ বলেন, “ইরানিরা স্পষ্টতই আলোচনা করতে অত্যন্ত দক্ষ। তারা আমেরিকানদের ইসলামাবাদে ডেকে নিয়ে যাচ্ছে এবং কোনো ফলাফল ছাড়াই তাদের খালি হাতে ফিরিয়ে দিচ্ছে। ইরানি নেতৃত্বের দ্বারা, বিশেষ করে বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর (আইআরজিসি) মাধ্যমে একটি গোটা জাতিকে (যুক্তরাষ্ট্র) অপমানিত করা হচ্ছে।”
উল্লেখ্য, দুই দিন আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি ইরানি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনার জন্য মার্কিন আলোচকদের নির্ধারিত ইসলামাবাদ সফর বাতিল করেন। এর দুই সপ্তাহ আগে মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত পূর্ববর্তী আলোচনাটিও কোনো অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হয়েছিল।
এদিকে, আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, ইরান ‘হরমুজ প্রথম’ (Hormuz First) নামক একটি নতুন প্রস্তাব দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার বিনিময়ে জাহাজ মালিকদের তেহরানকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ বা মাশুল প্রদান করতে হবে, যা যুদ্ধের আগে বিনামূল্যে ছিল। তবে পারমাণবিক অস্ত্র ও নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত মূল আলোচনাগুলো পরবর্তী সময়ের জন্য স্থগিত রাখার প্রস্তাব দিয়েছে তেহরান।
জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও) ইরানের এই প্রস্তাবকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। আইএমও-র মহাসচিব আর্সেনিও ডোমিঙ্গেজ জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক নৌচলাচল প্রণালীতে কোনো ধরনের কর বা শুল্ক আরোপের আইনি ভিত্তি নেই।
অন্যদিকে, ইসলামাবাদ আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর ট্রাম্প ইরানের বন্দরগুলোর ওপর পাল্টা অবরোধ আরোপ করেছেন। এর ফলে ইরানের অর্থনৈতিক সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) পূর্বাভাস দিয়েছে যে, এ বছর ইরানের জিডিপি ৬.১ শতাংশ সংকুচিত হবে এবং বার্ষিক মুদ্রাস্ফীতি ৭০ শতাংশে গিয়ে ঠেকতে পারে। অবরোধের কারণে দেশটির জ্বালানি উৎপাদন ও রপ্তানি খাতও দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির মুখে পড়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জার্মানির চ্যান্সেলরের এই প্রকাশ্য সমালোচনা বিশ্ব রাজনীতিতে ট্রাম্প প্রশাসনের ইরান নীতির কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলল।




Comments