Image description

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় নিখোঁজের একদিন পর উদ্ধার হওয়া অটো-ভ্যান চালক জহির আলী আকন্দ (৬৫) হত্যাকাণ্ডের ৮ দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। দীর্ঘ সময়েও মামলার কোনো কূলকিনারা না হওয়ায় চরম হতাশা ও উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন নিহতের স্বজনরা।

গত ২১ এপ্রিল সকালে সলঙ্গা থানার কালিকাপুর এলাকায় ফুলজোর নদীর পাড় থেকে জহির আলীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি রায়গঞ্জ উপজেলার ঘুড়কা ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। নিহতের ছেলে বাবু আকন্দ আহাজারি করে বলেন, "আমার বাবাকে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। ৮ দিন হয়ে গেল অথচ পুলিশ কাউকে ধরতে পারল না। আমরা গরিব মানুষ, বাবার অটো চালিয়েই সংসার চলত। এখন বিচার পাওয়ার বিষয়েও আমরা কোনো আশার আলো দেখছি না।"

স্থানীয়রা জানান, ঘটনার দিন জহির আলীর অটো-ভ্যানটি দেওভোগ বাজার এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হলেও কারা সেটি সেখানে রেখে গেছে, তা শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। দেওভোগ বাজারের একজন ব্যবসায়ী আক্ষেপ করে বলেন, "ভ্যান উদ্ধার হলেও ঘাতকদের হদিস না পাওয়াটা দুঃখজনক। দ্রুত খুনিদের গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনা প্রয়োজন।"

ফুলজোর নদীর পাড় এলাকাটি অপরাধীদের নিরাপদ আস্তানায় পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। কালিকাপুর এলাকার বাসিন্দা মো. আল মাহমুদ বলেন, "এই নদীর পাড়ে এর আগেও একাধিক মরদেহ পাওয়া গেছে। অপরাধীরা খুন করে এখানে লাশ ফেলে অনায়াসে পালিয়ে যায়। প্রশাসনের কঠোর নজরদারি না থাকায় আমরা সবসময় আতঙ্কে থাকি। রাতে একা চলাফেরা করার সাহস পাই না।"

সলঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম আলী জানান, "ঘটনাটি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছি। বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ ও ক্লু সংগ্রহের কাজ চলছে। আশা করছি দ্রুতই রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।"

রায়গঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম বলেন, "আমরা বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। অপরাধীদের শনাক্ত করতে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।"

মানবকণ্ঠ/ডিআর