ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় মঙ্গলবার সকালে বয়ে যাওয়া প্রবল কালবৈশাখী ঝড় ও ভারী বর্ষণে জনপদ লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। ঝড়ে গাছপালা উপড়ে ঘরবাড়ি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝোড়ো হাওয়ায় গাছ পড়ে আখাউড়া-আগরতলা সড়কে বেশ কিছু সময় যান চলাচল বন্ধ থাকায় জনজীবনে চরম ভোগান্তি নেমে আসে। বিশেষ করে পরীক্ষা কেন্দ্রে যাওয়ার পথে চরম বিপাকে পড়েন এসএসসি পরীক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল ৯টার পর বজ্রপাতসহ হঠাৎ শুরু হয় কালবৈশাখীর তাণ্ডব। ঝড়ে উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার বিভিন্ন গ্রামে গাছ উপড়ে পড়ে অসংখ্য কাঁচা ঘরবাড়ি ধসে গেছে। অনেক স্থানে বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। তবে ঝড়ে এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শাহিনুজ্জামান জানান, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী ঝড়ে অন্তত ১৩৩টি বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে সরাসরি ক্ষতির মুখে পড়েছেন প্রায় সাড়ে চার শতাধিক মানুষ।
সবথেকে বেশি প্রভাব পড়েছে কৃষি খাতে। উপজেলার চরনারায়ণপুর গ্রামের কৃষক আনোয়ার হোসেন আক্ষেপ করে বলেন, “ঝড়ে আমার সব ধানী জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বছরভরের খোরাক জোগানোর এই ফসল ঘরে তোলা নিয়ে এখন চরম দুশ্চিন্তায় আছি।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ রানা জানান, ঝড়ে প্রায় ১০ বিঘা সবজি ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রায় ১০০ হেক্টর জমির বোরো ধান বাতাসে হেলে পড়েছে। তবে বৃষ্টির পানি দ্রুত নেমে গেলে কৃষকেরা কিছুটা ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এদিকে সকাল ৯টার দিকে ঝড়ের তীব্রতা বাড়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়ে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীরা। ভারী বর্ষণ ও ঝোড়ো হাওয়ার কারণে অনেক পরীক্ষার্থী সময়মতো কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেনি। অনেককে ভিজে অবস্থায় পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেখা গেছে।
আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাপসী রাবেয়া জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মাঠে রয়েছেন। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে। তালিকা সম্পন্ন হলে ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারি সহায়তা প্রদানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments