Image description

ইরান ও লেবাননে চলমান যুদ্ধের স্থায়ী অবসান এবং মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের লক্ষ্যে ওয়াশিংটনকে ১৪ দফার একটি সংশোধিত প্রস্তাব দিয়েছে তেহরান। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’-এর একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই প্রস্তাবের ওপর ভিত্তি করে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে মাত্র এক মাসের কঠোর সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে ইরান।

ইরানের ১৪ দফা প্রস্তাবে যা আছে:
গত বৃহস্পতিবার তেহরান ওয়াশিংটনের কাছে এই প্রস্তাবনা জমা দেয়। এতে প্রধান তিনটি বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে:
১. কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া।
২. ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ অবরোধের অবসান।
৩. ইরান ও লেবানন ফ্রন্টে চলমান যুদ্ধের স্থায়ী সমাপ্তি বা যুদ্ধবিরতি।

প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথম এক মাসে এই বিষয়গুলো নিয়ে চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর দ্বিতীয় ধাপে আরও এক মাসব্যাপী ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার পরিকল্পনা রয়েছে।

শনিবার পাম বিচ থেকে মায়ামি যাওয়ার পথে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান, তিনি ইরানের এই প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করবেন। তিনি বলেন, “তারা আমাকে চুক্তির মূল ধারণাটি সম্পর্কে জানিয়েছে, এখন আমি এর বিস্তারিত ভাষা বা ড্রাফট খতিয়ে দেখব।”

তবে আলোচনার আবহ থাকলেও ট্রাম্প তাঁর চিরচেনা কঠোর মনোভাব থেকে সরে আসেননি। ইরান যদি কোনো প্রকার ‘অসদাচরণ’ করে, তবে পুনরায় হামলার নির্দেশ দেবেন কি না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “তারা যদি খারাপ কিছু করে, তবে এমনটা (হামলা) হওয়ার সম্ভাবনা অবশ্যই আছে।”

বিমানে থাকাকালীন নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প আরও কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “আমি ভাবতেও পারছি না যে এই প্রস্তাবটি গ্রহণযোগ্য হতে পারে। গত ৪৭ বছরে মানবতা ও বিশ্বের প্রতি যা করা হয়েছে, তার জন্য ইরান এখনও যথেষ্ট মূল্য পরিশোধ করেনি।”

মজার ব্যাপার হলো, ট্রাম্প ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ অবরোধকে একটি ‘অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ’ এবং লাভজনক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, এই অবরোধ বজায় রাখা সত্ত্বেও তাঁর এই উক্তি সত্য যে, বড় ধরনের শত্রুতা ‘শেষ’ হয়ে গেছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের পক্ষ থেকে এই এক মাসের আলটিমেটাম মূলত ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপ তৈরির একটি কৌশল। তবে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যে স্পষ্ট যে, ৪৭ বছরের বৈরিতার হিসাব না চুকিয়ে তিনি সহজে কোনো চুক্তিতে সই করতে রাজি নন। হরমুজ প্রণালী ও আন্তর্জাতিক তেলের বাজারের স্থিতিশীলতা এখন এই কূটনৈতিক দরকষাকষির ওপর নির্ভর করছে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি