Image description

আফ্রিকার দেশ গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে (ডিআর কঙ্গো) ইবোলা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) সতর্ক করে জানিয়েছে, এই প্রাণঘাতী ভাইরাসটি ধারণার চেয়েও অনেক দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনা করে ডব্লিউএইচও বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক জরুরি স্বাস্থ্য সংকট ঘোষণা করেছে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, কঙ্গোতে ইবোলায় আক্রান্ত হয়ে অন্তত ১৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। সংক্রমণের আঁচ লেগেছে প্রতিবেশী দেশ উগান্ডাতেও, সেখানেও একজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। 

ডব্লিউএইচও’র কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, বর্তমানে সরকারিভাবে যে সংখ্যক রোগী শনাক্ত হয়েছে, বাস্তবে আক্রান্তের সংখ্যা তার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি হতে পারে।

লন্ডনভিত্তিক এমআরসি সেন্টার ফর গ্লোবাল ইনফেকশাস ডিজিজ অ্যানালাইসিসের গবেষকদের একটি মডেলিং বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। বিপুল সংখ্যক রোগী এখনো শনাক্তের বাইরে রয়ে যাওয়ায় সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।

ডব্লিউএইচও’র প্রতিনিধি ডা. অ্যান আনসিয়া বলেন, প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্রস্থল ইতুরি প্রদেশ অত্যন্ত অনিরাপদ এবং সেখানে মানুষের চলাচল অনেক বেশি হওয়ায় চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এছাড়া পূর্ব কঙ্গোর বড় শহর গোমা বর্তমানে বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে থাকায় সেখানে স্বাস্থ্যকর্মীদের পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বর্তমান প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী ‘বান্ডিবুগিও’ (Bundibugyo) স্ট্রেইনের ইবোলা তুলনামূলক বিরল। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই নির্দিষ্ট স্ট্রেইনের বিরুদ্ধে এখনো কোনো অনুমোদিত টিকা তৈরি হয়নি। ফলে আক্রান্তদের প্রাণহানির ঝুঁকি অনেক বেশি।

পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় প্রতিবেশী রুয়ান্ডা ইতোমধ্যে কঙ্গোর সঙ্গে তাদের সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে। আফ্রিকার অন্যান্য দেশগুলোও সীমান্তে স্বাস্থ্য পরীক্ষা জোরদার করেছে। এদিকে, ইবোলার উপসর্গ দেখা দেওয়ায় এক মার্কিন মিশনারি চিকিৎসককে চিকিৎসার জন্য জার্মানি নেওয়া হচ্ছে। ভাইরাসের সংস্পর্শে আসা আরও অন্তত ছয়জন মার্কিন নাগরিককে কঙ্গো থেকে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে।

উল্লেখ্য, ২০১৪ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে পশ্চিম আফ্রিকায় ইবোলার ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবে প্রায় ১১ হাজার ৩২৫ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা না গেলে আবারও বড় ধরনের বৈশ্বিক স্বাস্থ্য বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

মানবকণ্ঠ/ডিআর