আদমদীঘির এসিল্যান্ডকে বর্জনের ঘোষণা
কত সাংবাদিককে হেনস্তা করেছি, পিটিয়েছি: এসিল্যান্ড আশরাফুল
বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ড আশরাফুল ইসলামের অপেশাদার আচরণ, সাংবাদিকদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য এবং ‘পেটানোর’ হুমকির প্রতিবাদে তাঁর সব ধরনের সংবাদ বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা।
মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে আদমদীঘি প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক জরুরি সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জানা যায়, গত দুই সপ্তাহ আগে আদমদীঘিতে এসিল্যান্ড হিসেবে যোগদানের পর থেকেই আশরাফুল ইসলামের বিরুদ্ধে সাধারণ সেবাপ্রার্থী ও সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ ওঠে। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে এক সাংবাদিক তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে তাঁর কার্যালয়ে গেলে এসিল্যান্ড বিরক্তি প্রকাশ করেন। একপর্যায়ে তিনি দাম্ভিকতার সঙ্গে বলেন, “পূর্বের কর্মস্থলে থাকতে কত সাংবাদিককে হেনস্তা করেছি, পিটিয়েছি; আমার সম্পর্কে খবর নেন।” তাঁর এমন মন্তব্য স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর সরাসরি আঘাত বলে মনে করছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা।
সবশেষ মঙ্গলবার সকালে তিন দিনব্যাপী ‘ভূমি মেলা’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও সাংবাদিকদের সঙ্গে পুনরায় অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ ওঠে। মেলা উপলক্ষে আগের রাতে ভূমি অফিসের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ জানানো হলেও মঙ্গলবার সকালে সংবাদ সংগ্রহের সময় এসিল্যান্ড তাঁদের বাধা প্রদান করেন। বিশেষ করে প্রধান অতিথি সংসদ সদস্য আব্দুল মহিত তালুকদারের বক্তব্য নিতে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে অত্যন্ত অপমানজনক আচরণ করেন তিনি।
এই ঘটনার পর উপজেলার কর্মরত সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। পরে সাংবাদিকরা বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেন যে, এসিল্যান্ড আশরাফুল ইসলাম এই উপজেলায় কর্মরত থাকাকালীন তাঁর কার্যালয় বা তাঁর সংশ্লিষ্ট কোনো সংবাদ আর প্রকাশ করা হবে না।
আদমদীঘির সাংবাদিকরা জানান, একজন সরকারি কর্মকর্তার মুখে সাংবাদিকদের পেটানোর হুমকি বা হেনস্তা করার দম্ভোক্তি অত্যন্ত দুঃখজনক। এমন আচরণ শুধু অগ্রহণযোগ্যই নয়, বরং সরকারের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ণ করে। তাঁরা অবিলম্বে এই কর্মকর্তার অপেশাদার আচরণের প্রতিকার দাবি করেছেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশরাফুল ইসলাম অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments