Image description

ভারতের রাজনীতিতে এখন এক অদ্ভুত ও চমকপ্রদ নাম ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP) বা আরশোলা জনতা পার্টি। নিজেদের ‘ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক গোষ্ঠী’ হিসেবে পরিচয় দেওয়া এই সংগঠনটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রীতিমতো ঝড় তুলেছে। জেন-জি (Gen Z) বা তরুণ প্রজন্ম থেকে শুরু করে তুখোড় রাজনীতিবিদ—সবাই এখন মজেছেন এই আরশোলা জনতা পার্টিতে।

মাত্র দুই দিনের পুরনো এই সংগঠনটি নিজেদের পরিচয় দিচ্ছে— ‘যুবদের দ্বারা, যুবদের জন্য, যুবদের রাজনৈতিক মঞ্চ’ হিসেবে। তাদের মূলমন্ত্রও বেশ হাস্যকর ও ভিন্নধর্মী— ‘ধর্মনিরপেক্ষ, সমাজতান্ত্রিক, গণতান্ত্রিক এবং অলস’। সদস্য হওয়ার শর্ত হিসেবে বলা হয়েছে—প্রার্থীকে অবশ্যই বেকার হতে হবে, অলস হতে হবে, সারাক্ষণ অনলাইনে থাকতে হবে এবং পেশাদারিভাবে অভিযোগ করার ক্ষমতা থাকতে হবে।

দলের নাম ও স্লোগান শুনে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীরা হেসে গড়াগড়ি খেলেও সদস্য সংগ্রহে ব্যাপক সাড়া মিলছে। দাবি করা হয়েছে, ইতোমধ্যে ৭০ হাজার মানুষ এই ভার্চুয়াল দলের সদস্য হয়েছেন। এমনকি তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মহুয়া মৈত্র এবং কীর্তি আজাদও এই আলোচনায় যোগ দিয়েছেন। মহুয়া মৈত্র মজা করে এই দলে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলে সংগঠনটি তাকে স্বাগত জানায়। অন্যদিকে, ১৯৮৩-র বিশ্বকাপ জয়ী ক্রিকেটার ও সাংসদ কীর্তি আজাদ যোগদানের যোগ্যতা জানতে চাইলে দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘বিশ্বকাপ জেতাই আপনার জন্য যথেষ্ট যোগ্যতা!’

জানা গেছে, এই বিচিত্র দলের নেপথ্যে রয়েছেন অভিজিৎ দীপকে, যিনি আগে আম আদমি পার্টির (AAP) সোশ্যাল মিডিয়া উইংয়ে কাজ করেছেন। এই নামকরণের পেছনে একটি প্রতিবাদের সুরও রয়েছে। সম্প্রতি ভারতের সুপ্রিম কোর্টে শুনানি চলাকালীন বেকার যুবকদের ‘আরশোলা’ ও ‘পরজীবী’র সঙ্গে তুলনা করা হয়েছিল—এমন একটি অভিযোগ ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়। সেই অপমানের ব্যঙ্গাত্মক জবাব দিতেই এই সংগঠনের জন্ম বলে মনে করা হচ্ছে।

শুধু হাস্যরস নয়, ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ তাদের ইশতাহারে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও সামাজিক ইস্যু তুলে ধরেছে। এর মধ্যে রয়েছে—পরীক্ষায় দুর্নীতি, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সংসদে নারীদের জন্য ৫০ শতাংশ আসন সংরক্ষণ। সমাজকর্মী অঞ্জলি ভরদ্বাজের দেওয়া তথ্য জানার অধিকার (RTI) রক্ষা ও গোপন অনুদান না নেওয়ার প্রস্তাবও তারা গ্রহণ করেছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় কৃত্রিম মেধার (AI) সাহায্যে তৈরি করা এই দলের থিম সং-এ শোনা যাচ্ছে, ‘আমরা আরশোলা পার্টি, জ্বলন্ত শহরের সন্তান।’ শেষ পর্যন্ত এটি পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক দল হবে নাকি স্রেফ একটি প্রতিবাদী ব্যঙ্গ হিসেবেই থেকে যাবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে আপাতত ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ যে ভারতের নেটিজেনদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

মানবকণ্ঠ/আরআই