Image description

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে আমূল পরিবর্তন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ‘ফ্যামিলি ট্রি’ (পারিবারিক তথ্যভান্ডার) নামে একটি অত্যাধুনিক ও সমন্বিত ডিজিটাল নেটওয়ার্কিং সিস্টেম চালুর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। এর ফলে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা সব ধরনের সামাজিক ভাতা ও সুবিধা একটি মাত্র কার্ডের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। বিশেষ করে একই ব্যক্তির একাধিক ভাতা গ্রহণের মাধ্যমে ‘ডাবল বুকিং’ বা অনিয়ম চিরতরে বন্ধ হবে।

সচিবালয়ে বাসসকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে সরকারের এই নতুন মেগা পরিকল্পনা ও ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, ইউরোপ বা আমেরিকার ধাঁচে বাংলাদেশে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘সোশ্যাল কার্ড’ ব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের মূল লক্ষ্য। এই ‘ফ্যামিলি ট্রি’ সিস্টেমে প্রতিটি পরিবারের একটি একক ডিজিটাল আইডি থাকবে। মাত্র একটি কার্ড ও কিউআর কোড (QR Code) ব্যবহার করে প্রান্তিক মানুষ তাদের প্রাপ্য সব ধরনের রাষ্ট্রীয় সুবিধা ভোগ করতে পারবে। এর মাধ্যমে জানা যাবে কোন পরিবারের কোন সদস্য রাষ্ট্র থেকে কী কী সুবিধা পাচ্ছেন।

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, বর্তমান ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় মাসিক ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ৫০০ টাকা। তবে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে একটি বিশেষ নিয়ম করা হয়েছে—যারা বর্তমানে ৫০০ বা ১০০০ টাকার বয়স্ক বা বিধবা ভাতা পাচ্ছেন, তারা যদি নতুন এই ২,৫০০ টাকার কার্ড নিতে চান, তবে তাদের আগের ভাতাটি আনুষ্ঠানিকভাবে ত্যাগ বা সারেন্ডার করতে হবে। ভবিষ্যতে কৃষক কার্ড ও হেলথ কার্ডসহ সব ধরনের সেবাকে একটি জাতীয় নীতিমালার অধীনে একীভূত করার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।

কর্মসূচির অগ্রগতি সম্পর্কে ফারজানা শারমীন বলেন, আগামী জুনের মধ্যে ৮০ হাজার মানুষকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ চলছে। গত ১৬ মে চাঁদপুর থেকে এই কর্মসূচির দ্বিতীয় ধাপের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। আগামী জুনে তৃতীয় ধাপে আরও ১৮টি উপজেলায় পাইলটিং শুরু হবে। সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক উপায়ে ‘প্রক্সি মিনস টেস্ট’ (PMT) মেথডে স্কোরিংয়ের মাধ্যমে প্রকৃত অভাবী ও অতিদরিদ্র পরিবারগুলো নির্বাচন করা হচ্ছে।

মাঠপর্যায়ে ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে যেকোনো ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার ও সাধারণ মানুষের মাঝখানে কোনো মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালের ঠাঁই হবে না। কার্ডের নামে টাকা আদায় বা স্বজনপ্রীতির অভিযোগ পাওয়ামাত্রই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। জনকল্যাণমূলক এই কাজে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে অটল রয়েছে।

মানবকণ্ঠ/আরআই