ইরান যুদ্ধ বন্ধ ও চলমান সংকটগুলোর স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে তেহরানে পৌঁছেছে কাতারের একটি বিশেষ প্রতিনিধিদল। রয়টার্সের বরাত দিয়ে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই কূটনৈতিক উদ্যোগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংকটে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাতারের সফল ইতিহাস থাকলেও চলমান ইরান যুদ্ধে দোহা এতদিন নিজেকে দূরে সরিয়ে রেখেছিল। মূলত যুদ্ধের শুরুতে ইরানের মিসাইল ও ড্রোন হামলায় কাতারের জ্বালানি অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তারা এই দূরত্ব বজায় রাখে। তবে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক তৈরিতে কাতার আবারও এই শান্তি প্রক্রিয়ায় যুক্ত হলো।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পাকিস্তানই মূলত প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে। সুইডেনে ন্যাটোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের ফাঁকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কাতারের এই উদ্যোগ সম্পর্কে বলেন, "ইরান ইস্যুতে পাকিস্তান চমৎকার কাজ করেছে এবং তারাই আমাদের মূল আলোচনাকারী। তবে উপসাগরীয় দেশগুলোর নিজস্ব কিছু স্বার্থ রয়েছে। আমরা সবার সঙ্গেই যোগাযোগ রাখছি।"
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলার মাধ্যমে এই যুদ্ধের সূত্রপাত হয়। বর্তমানে যুদ্ধক্ষেত্রে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চললেও বড় কোনো কূটনৈতিক সমাধান আসেনি। আমেরিকার পক্ষ থেকে ইরানি বন্দরগুলো অবরুদ্ধ করা এবং ইরানের কৌশলগত 'হরমুজ প্রণালী' বন্ধ করে দেওয়ার ফলে শান্তি আলোচনা বেশ জটিল আকার ধারণ করেছে।
ইরানের একটি শীর্ষস্থানীয় সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, দুই পক্ষের মধ্যে মতানৈক্য অনেকটাই কমে এসেছে। তবে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি ও হরমুজ প্রণালীর ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার মতো বিষয়গুলো এখনো মূল বাধা। যদিও গত বৃহস্পতিবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও পরিস্থিতি নিয়ে কিছুটা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
যুদ্ধের কারণে কাতার আর্থিকভাবে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। ইরানের হামলায় কাতারের রাস লাফান এলএনজি উৎপাদন কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তাদের মোট রপ্তানি ক্ষমতার প্রায় ১৭ শতাংশ ধ্বংস হয়ে যায়। গত ২ মার্চ থেকে এলএনজি উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় দেশটি। এছাড়া, বিশ্বের মোট এলএনজি বাণিজ্যের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হতো। সেটি বন্ধ থাকায় কাতারের এলএনজি রপ্তানি বর্তমানে শূন্যের কোঠায়।
উল্লেখ্য, কাতার যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ নন-ন্যাটো মিত্র দেশ। দেশটিতে মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় মার্কিন সামরিক ঘাঁটি 'আল উদেইদ এয়ার বেস' অবস্থিত হওয়ায় এই শান্তি আলোচনায় দোহার ভূমিকা কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments